তাবারক হোসেন আজাদ: ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ২১টি ইউপির আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৭১টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। কিন্তু গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘর স্বচ্ছল পরিবার লোকজন ও জনপ্রতিনিধি দের-স্বজনদের। তাদের বেশিরভাগই গ্রামের বাড়ীতে ও শহরে বসবাস করছেন।
২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনের কোন তদারকি না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন মাদক ব্যাবসার নিরাপদ স্থান। বেশিরভাগ ঘর গপনে বিক্রি হয়েছে এবং আরও বিক্রি করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব বিষয়ে কোন ব্যাক্তি প্রতিবাদ করলে হতে হচ্ছে লাঞ্চিত বলে বসবাসকারি একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে।
এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ডিপটিউবওয়ে লের (পানি), সমস্যা,কবরস্থান নেই, চরম জলাবদ্ধতা, পুকুর থাকলেও ঘাটলা ভাঙ্গা, কয়েকটিঘর ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
টয়লেটগুলো ভেঙ্গে গেছে এবং কলগুলো নষ্ট ও চুরি হয়ে গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন উত্তর হামছাদি, দক্ষিন হামছাদি, দালালবাজার, চররুহিতা, ভবানিগন্জ, শাকচর ও নন্দনপুর ইউপির কয়েকটি এলাকা আশ্রয়ন ও আবাসন কেন্দ্রে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়।। এসব আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ২১২টি ঘরে কেউ না থাকায় নতুন করে বরাদ্ধ চেয়ে আবেদন জানানো হয় বলে জানান সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) সন্জয় ঘোষ মোবাইলে জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি খাস জমিতে প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুটি বেড রুম, একটি করে রান্না ঘর, ইউটিলিটি রুম, টয়লেট ও বারান্দা। দুর্যোগসহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই ও প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি সব বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হয়।।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে সদরে ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ তাদের জন্য ৭৭১টি ঘর নির্মাণ বাবদ বরাদ্দ আসে। যার মধ্যে প্রথম শ্রেণির ঘর পাবেন, যাদের জমি নেই ও ঘরও নেই তাদের। বিশুদ্ধ পানি, কবরস্থান ও জলবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় চরম দুর্ভোগে রয়েছে আশ্রয়নবাসীরা।
সদর উপজেলার উত্তর হামছাদি, দক্ষিন হামছাদি, দালালবাজার, চররুহিতা, ভাঙ্গা খাঁ, বশিকপুর, দত্তপাড়া, চন্দ্রগন্জ, হাজিরপাড়া, চরশাহী, দিঘলি, মান্দারি, কুশাকালি, ভবানিগন্জ, শাকচর, নন্দনপুর ইউপি এবং পৌরসভার কয়েকটি সহ ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৭৭১টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঘরে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেছে উপকারভোগীর।
৭৭১টিতে মানুষের বসবাস। বাকি ২১২টি ঘরে ঝুলছে তালা। যারা বরাদ্ধ নিয়েছেন, তারা নীজেদের বাড়ীতেই বসবাস করছেন। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা। নীজস্ব পুকুর ও কবরস্থানও নেই। একাধিকবার ইউএনও ও সহকারি কমিশনার এর কাছে আবেদন করলেও পাত্তা দেয়া হয়না।।
অভিযোগে জানাযায়, কুশাকালি, ভবানিগন্জ, শাকচর, নন্দনপুর ইউপি এবং পৌরসভার কয়েকটি সহ বিভিন্ন স্থানের আশ্রয়কেন্দ্র ও আবাসনকেন্দ্রে ঘর পাওয়া অসহায় নিরীহদের কাছ থেকে –২০-৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিস দলিল রেজিস্ট্রি খরচ হিসেবে নিয়েছে ১২০০ টাকা করে। শুধু তা-ই নয়; ঘর পাওয়াদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে বিনাপয়সায় মাটি কাটা ও ভরাটের কাজসহ শ্রমিক হিসেবেও খাটান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ- প্রকল্পের আওতায় এ ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছিলো।
পশ্চিম নন্দনপুর মাইলের মাথা আশ্রয়নকেন্দ্রে বসবাসকারি গ্রামপুলিশ ফয়েজ হোসেন বলেন, ১২ পরিবার বসবাস করেন। তাদের মধ্যে-৬টি পরিবার ছাড়া বাকি ৬-পরিবার জান্নাত বেগম-আনসার চাকুরী ( বাড়ী আলেকজেন্ডার)-, রেখা রানী (নীজ বাড়ী চৌধুরী বাজার), বিপ্লব (দালালবাজার বাড়ী), আদরী বেগম,( চৌধুরী বাজার) কয়েক ব্যাক্তির কাছে ঘর বিক্রি করেন এবং মোঃ মোহন তার ঘরটি চার লাখ টাকায় স্থানীয় জিহাদ হোসেনের কাছে বিক্রি করেন।
এছাড়াও পানি নাই, জলাবদ্ধতা, রাস্তা, কল নষ্ট, ঘরের ফাটল দেখা দিছে, আস্তর ঝরে পড়ছে। এসিল্যান্ড, মেম্বাররা আসলেও ঘুরে ফিরে চলে যায়। একই অবস্থা দালালবাজার খিদিরপুর, গংগাপুর, পুর্ব নন্দনপু-, উত্তর হামছাদি কাজির দিঘিপাড়-আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে।।
এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট রহমত উল্লাহ বিপ্লব বলেন, তখনকার সময়ে প্রায় ঘরগুলো বরাদ্ধেই অনিয়ম হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা টাকা নিয়ে ঘরগুলো বরাদ্ধ দিয়েছেন। প্রতিদিন সন্ধার পর থেকে মধ্য রাত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর মাদকের জমজমাট আড্ডা চলে বলে শুনেছি। ইউনিয়নে খোঁজ নিলে সত্যতা পাওয়া যাবে।
উত্তর হামছাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, দক্ষিন হামছাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মীর শাহআলম ও দালালবাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এডঃ নজরুল ইসলাম. বলেন, অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে নিম্নমানের কাজ হয়েছিলো। মেঝে ও বারান্দায় মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ পাওয়া দের কাছ থেকে ৬-১০ হাজার টাকা করে মেম্বারদের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের ঘর হওয়ায় আবার অনেকেই বিনা পারিশ্রমিকে শ্রমিকের কাজ করছেন। রেজিস্ট্রির জন্য ভূমি অফিস ১২০০ টাকা করে নিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে কতটি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে, তা আমার জানা নাই। আপনি আমাকে সকল তথ্য দিন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) এর সাথে আলোচনা করে খুব সহসায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেঘনার তীর 


















