ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, বিক্রি ৪০ হাজারে

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • 100

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (Yellowfin Tuna) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত হলেও এ অঞ্চলে এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। মেসার্স মনি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মাছটি কিনে নেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, এর আগে এ ধরনের মাছ আমি দেখিনি। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটি ঢাকায় পাঠানো হবে। জানা গেছে, গত পরশু কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর এলাকায় এফবি সজীব ট্রলারে কর্মরত জেলে জীবন মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। জীবন মাঝি বলেন, এ ধরনের দামী মাছ আমাদের জালে সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। পর্যটক মাহমুদা বলেন, এত বড় ইয়েলোফিন টুনা আগে কখনও দেখিনি। কাছ থেকে মাছটি দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (প্রায় ৪৭ মাইল) বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, বিক্রি ৪০ হাজারে

আডেট সময় ১১:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (Yellowfin Tuna) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত হলেও এ অঞ্চলে এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। মেসার্স মনি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মাছটি কিনে নেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, এর আগে এ ধরনের মাছ আমি দেখিনি। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটি ঢাকায় পাঠানো হবে। জানা গেছে, গত পরশু কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর এলাকায় এফবি সজীব ট্রলারে কর্মরত জেলে জীবন মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। জীবন মাঝি বলেন, এ ধরনের দামী মাছ আমাদের জালে সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। পর্যটক মাহমুদা বলেন, এত বড় ইয়েলোফিন টুনা আগে কখনও দেখিনি। কাছ থেকে মাছটি দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (প্রায় ৪৭ মাইল) বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।