ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, বিক্রি ৪০ হাজারে

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • 166

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (Yellowfin Tuna) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত হলেও এ অঞ্চলে এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। মেসার্স মনি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মাছটি কিনে নেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, এর আগে এ ধরনের মাছ আমি দেখিনি। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটি ঢাকায় পাঠানো হবে। জানা গেছে, গত পরশু কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর এলাকায় এফবি সজীব ট্রলারে কর্মরত জেলে জীবন মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। জীবন মাঝি বলেন, এ ধরনের দামী মাছ আমাদের জালে সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। পর্যটক মাহমুদা বলেন, এত বড় ইয়েলোফিন টুনা আগে কখনও দেখিনি। কাছ থেকে মাছটি দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (প্রায় ৪৭ মাইল) বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, বিক্রি ৪০ হাজারে

আডেট সময় ১১:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (Yellowfin Tuna) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত হলেও এ অঞ্চলে এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। মেসার্স মনি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মাছটি কিনে নেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, এর আগে এ ধরনের মাছ আমি দেখিনি। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটি ঢাকায় পাঠানো হবে। জানা গেছে, গত পরশু কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর এলাকায় এফবি সজীব ট্রলারে কর্মরত জেলে জীবন মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। জীবন মাঝি বলেন, এ ধরনের দামী মাছ আমাদের জালে সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। পর্যটক মাহমুদা বলেন, এত বড় ইয়েলোফিন টুনা আগে কখনও দেখিনি। কাছ থেকে মাছটি দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (প্রায় ৪৭ মাইল) বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।