ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

কমলনগরে চা দোকান কর্মচারী অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি নেই

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 95

কমলনগর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. বাদশাহ (২৬) নামে এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাদশাহকে এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। বাদশাহ ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে দৈনিক মজুরিতে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী, সাত বছরের এক মেয়ে ও দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন বাদশাহ। কিন্তু সকাল পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে পৌঁছাননি। পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

মুনির হোসেন জানান, টাকা পাওয়ার পর সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে কথিত অপহরণকারীরা। কিন্তু সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহর মা জহুরা খাতুন ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাদশাহ। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

কমলনগরে চা দোকান কর্মচারী অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি নেই

আডেট সময় ১১:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কমলনগর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. বাদশাহ (২৬) নামে এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাদশাহকে এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। বাদশাহ ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে দৈনিক মজুরিতে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী, সাত বছরের এক মেয়ে ও দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন বাদশাহ। কিন্তু সকাল পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে পৌঁছাননি। পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

মুনির হোসেন জানান, টাকা পাওয়ার পর সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে কথিত অপহরণকারীরা। কিন্তু সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহর মা জহুরা খাতুন ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাদশাহ। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।