ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

কমলনগরে চা দোকান কর্মচারী অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি নেই

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 113

কমলনগর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. বাদশাহ (২৬) নামে এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাদশাহকে এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। বাদশাহ ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে দৈনিক মজুরিতে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী, সাত বছরের এক মেয়ে ও দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন বাদশাহ। কিন্তু সকাল পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে পৌঁছাননি। পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

মুনির হোসেন জানান, টাকা পাওয়ার পর সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে কথিত অপহরণকারীরা। কিন্তু সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহর মা জহুরা খাতুন ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাদশাহ। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

কমলনগরে চা দোকান কর্মচারী অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি নেই

আডেট সময় ১১:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কমলনগর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. বাদশাহ (২৬) নামে এক চা দোকানের কর্মচারী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাদশাহকে এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। বাদশাহ ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে দৈনিক মজুরিতে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী, সাত বছরের এক মেয়ে ও দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার ভোরে দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন বাদশাহ। কিন্তু সকাল পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে পৌঁছাননি। পরে দোকানের মালিক ফারুক হোসেন তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাদশাহর শ্যালক মুনির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেন।

পোস্ট দেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বাদশাহর সন্ধান দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

মুনির হোসেন জানান, টাকা পাওয়ার পর সন্ধ্যায় বাদশাহকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে কথিত অপহরণকারীরা। কিন্তু সন্ধ্যায় তাকে ফেরত না দিয়ে আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাদশাহর মা জহুরা খাতুন ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাদশাহ। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।