ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো ৫ শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 59

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চর চাকলা গ্রাম। গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো না ঘটলেও প্রতি বছরই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামে। অথচ এ এলাকায় নেই প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী। নেই প্রয়োজনীয় সচেতনতাও। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা।
মৃতরা হল- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)।
চর চাকলা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলাকায় ডুবে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোন উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই। বছরের পর বছর শিশুরা মারা যাবে এটাই যেন এ এলাকার মানুষের নিয়তি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রীক কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো উচিত সরকারের। স্থানীয়ভাবে একটি উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দলও প্রস্তুত করা যেতে পারে। সরকার চাইলেই খুব সহজে এটা করতে পারে। এরকম আমরা পদক্ষেপ চাই সরকারের কাছে।
একই এলাকার মো. শুকুরদ্দি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে আসথে হলে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। যে কারণে প্রতি বছর শিশুরা ডুবে মারা গেলেও আমরা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। তবে পরিবার থেকেই শিশুদের চোখে চোখে রাখা হয়। চোখের আড়াল হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। আজ যে ৫ শিশু মারা গেছে, তারাও পরিবারের অগোচনে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গেছিলো।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয় নি। আল্লাহ এই শিশুদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়ে মসজিদকেন্দ্রিক এবং স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। আমরা অবশ্যই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো। আমরা সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নদীতে গোসল করতে যায় ওই পাঁচ শিশু। সবাই যখন শুক্রবারের জুম্মার নামাজে ব্যস্ত তখনই পদ্মার একটি শাখা নদীতে একে একে ডুবে মারা যান ওই পাচ শিশু। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা নারীরা তাদের উদ্ধার করে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো ৫ শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আডেট সময় ১০:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চর চাকলা গ্রাম। গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো না ঘটলেও প্রতি বছরই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামে। অথচ এ এলাকায় নেই প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী। নেই প্রয়োজনীয় সচেতনতাও। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা।
মৃতরা হল- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)।
চর চাকলা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলাকায় ডুবে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোন উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই। বছরের পর বছর শিশুরা মারা যাবে এটাই যেন এ এলাকার মানুষের নিয়তি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রীক কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো উচিত সরকারের। স্থানীয়ভাবে একটি উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দলও প্রস্তুত করা যেতে পারে। সরকার চাইলেই খুব সহজে এটা করতে পারে। এরকম আমরা পদক্ষেপ চাই সরকারের কাছে।
একই এলাকার মো. শুকুরদ্দি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে আসথে হলে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। যে কারণে প্রতি বছর শিশুরা ডুবে মারা গেলেও আমরা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। তবে পরিবার থেকেই শিশুদের চোখে চোখে রাখা হয়। চোখের আড়াল হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। আজ যে ৫ শিশু মারা গেছে, তারাও পরিবারের অগোচনে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গেছিলো।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয় নি। আল্লাহ এই শিশুদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়ে মসজিদকেন্দ্রিক এবং স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। আমরা অবশ্যই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো। আমরা সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নদীতে গোসল করতে যায় ওই পাঁচ শিশু। সবাই যখন শুক্রবারের জুম্মার নামাজে ব্যস্ত তখনই পদ্মার একটি শাখা নদীতে একে একে ডুবে মারা যান ওই পাচ শিশু। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা নারীরা তাদের উদ্ধার করে।