ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো ৫ শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 97

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চর চাকলা গ্রাম। গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো না ঘটলেও প্রতি বছরই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামে। অথচ এ এলাকায় নেই প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী। নেই প্রয়োজনীয় সচেতনতাও। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা।
মৃতরা হল- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)।
চর চাকলা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলাকায় ডুবে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোন উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই। বছরের পর বছর শিশুরা মারা যাবে এটাই যেন এ এলাকার মানুষের নিয়তি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রীক কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো উচিত সরকারের। স্থানীয়ভাবে একটি উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দলও প্রস্তুত করা যেতে পারে। সরকার চাইলেই খুব সহজে এটা করতে পারে। এরকম আমরা পদক্ষেপ চাই সরকারের কাছে।
একই এলাকার মো. শুকুরদ্দি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে আসথে হলে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। যে কারণে প্রতি বছর শিশুরা ডুবে মারা গেলেও আমরা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। তবে পরিবার থেকেই শিশুদের চোখে চোখে রাখা হয়। চোখের আড়াল হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। আজ যে ৫ শিশু মারা গেছে, তারাও পরিবারের অগোচনে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গেছিলো।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয় নি। আল্লাহ এই শিশুদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়ে মসজিদকেন্দ্রিক এবং স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। আমরা অবশ্যই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো। আমরা সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নদীতে গোসল করতে যায় ওই পাঁচ শিশু। সবাই যখন শুক্রবারের জুম্মার নামাজে ব্যস্ত তখনই পদ্মার একটি শাখা নদীতে একে একে ডুবে মারা যান ওই পাচ শিশু। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা নারীরা তাদের উদ্ধার করে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো ৫ শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আডেট সময় ১০:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী চর চাকলা গ্রাম। গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো না ঘটলেও প্রতি বছরই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয় এই গ্রামে। অথচ এ এলাকায় নেই প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী। নেই প্রয়োজনীয় সচেতনতাও। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়রা।
মৃতরা হল- চর চাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার ছোট বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার ছোট বোন সুরাইয়া (৯)।
চর চাকলা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেউ ডুবে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দিলেও আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলাকায় ডুবে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোন উদ্ধারকর্মী নেই। এমনকি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও নেই। বছরের পর বছর শিশুরা মারা যাবে এটাই যেন এ এলাকার মানুষের নিয়তি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রীক কিছু সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো উচিত সরকারের। স্থানীয়ভাবে একটি উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী দলও প্রস্তুত করা যেতে পারে। সরকার চাইলেই খুব সহজে এটা করতে পারে। এরকম আমরা পদক্ষেপ চাই সরকারের কাছে।
একই এলাকার মো. শুকুরদ্দি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে আসথে হলে একটি নদী পার হতে হয়। গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাও নেই। যে কারণে প্রতি বছর শিশুরা ডুবে মারা গেলেও আমরা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। তবে পরিবার থেকেই শিশুদের চোখে চোখে রাখা হয়। চোখের আড়াল হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। আজ যে ৫ শিশু মারা গেছে, তারাও পরিবারের অগোচনে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গেছিলো।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, পাশাপাশি পাঁচ শিশুকে দাফন করা হয়েছে। এক সঙ্গে এতগুলো কবর আগে কখনো খোঁড়া হয় নি। আল্লাহ এই শিশুদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজার রাজন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়ে মসজিদকেন্দ্রিক এবং স্কুলকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দুর্গম এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম চালু নেই। আমরা অবশ্যই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবো। আমরা সুযোগ আছে এবং আমরা চেষ্টা করব।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নদীতে গোসল করতে যায় ওই পাঁচ শিশু। সবাই যখন শুক্রবারের জুম্মার নামাজে ব্যস্ত তখনই পদ্মার একটি শাখা নদীতে একে একে ডুবে মারা যান ওই পাচ শিশু। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা নারীরা তাদের উদ্ধার করে।