ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 129

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট