ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 152

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট