রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দিনদুপুরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে একটি বসতভিটার জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রব রোড এলাকার সোলাইমান দফাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জমি দখলে ব্যবহৃত একটি বালুবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেওয়ায় এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের সোলাইমান দফাদার ২০০৩ সালে স্থানীয় সাহিদা ও আবদুল হাসিম নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ২২ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে পাকা বসতঘর নির্মাণ করে তিনি পরিবারে বসবাস করে আসছেন। জমি ক্রয়ের ১১ বছর পর স্থানীয় জামাল মুহুরী নামের এক ব্যক্তি জাল দলিল তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালে আদালতে মামলা হলে রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও চর আলগী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল ওয়ারেছসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে দেন। সালিশে জামাল মুহুরী ওই জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সোলাইমান দফাদার আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে বুধবার সকালে জামাল মুহুরীর ছেলে ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের মাঠকর্মী সুমনের নেতৃত্বে একদল লোক সাতটি পিকআপ ও ট্রাকে করে মাটি এনে সোলাইমানের বসতঘরের সামনের ৬ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমন উপজেলার চিহ্নিত ত্রাস দুলাল নেতার ছেলে রকি ও ফিরোজ আলমের ছেলে ঈশানসহ শতাধিক বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত করে এই হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা চারপাশ থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সোলাইমান দফাদারের পরিবারের লোকজন মাটি ভরাটে বাধা দিতে এগিয়ে আসলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হামলায় গুরুতর আহত মরিয়ম বেগম (৩৫) ও শরীফা খাতুনকে (৪৯) নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহত সাকিবুর রহমান (৩০), সুরমা আক্তার (৩২) ও পথচারী মামুনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী সোলাইমান দফাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সালিশে চূড়ান্ত মীমাংসা হওয়ার পরও সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে আমার পৈতৃক ও কেনা সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাধা দিতে গেলে আমার মেয়ে ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি সচল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, এটি মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেঘনার তীর 

























