ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

লক্ষ্মীপুরে গনিত-শারীরীক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজি-বাংলা ২য় বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক কিভাবে !

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৯:০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • 194

তাবারক হোসেন আজাদ: রিয়াজ উদ্দিন , পড়াশোনা করেছেন গনিত বিষয় নিয়ে। আর শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেনও গনিত বিষয়ে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানও করান গণিত বিষয়ে। তিনি আবার প্রতিষ্ঠান প্রধানও। আরেকজন রয়েছেন ওমর ফারুক, তিনি শারিরীক শিক্ষা বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। আর শিক্ষক হিসেবেও এমপিওভুক্ত হয়েছেন শারিরীক শিক্ষা বিষয়ে। কিন্তু প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন বাংলা ২য়পত্র।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বামনী ইউপির কাপিলাতুলি এলাকায় কাপিলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে (কেএসপি)। শুধু তাই নয় রিয়াজ উদ্দিন এখন ইংরেজি প্রধান পরীক্ষক। আর ওমর ফারক রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির শারিরীক শিক্ষক। এই বিষয়টি নিয়ে বিব্রত অন্য বিষয়ে পরীক্ষকরা (শিক্ষক)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বামনী ইউপির কাপিলাতুলি গ্রামের কেএস পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে গনিত বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক পরিচয় দেন। এতে গণিতে মূল শিক্ষকরা বিব্রত বোধ করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, তিনি নীজেই প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার সুবাধে প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফরম ই-টিআইএফ ফরমে গণিতের শিক্ষক হিসেবে তথ্য দেন। এই তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানপ্রধানের। কারণ কে কোন বিষয়ের শিক্ষক তা জানেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। তাই তথ্য যাচাই করে বোর্ডে পাঠানোর দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানের। এখানে তিনি নীজেই তো প্রধান। তাহলে কে যাচাই করবে। অপরদিকে-ওমর ফারুক রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান এর সহযোগিতা নিয়েই বাংলা ২য় পত্র বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হতে পেরেছেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে সেটি তথ্যদাতা হিসেবে পরীক্ষক এবং পরীক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। গনিত বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজি পরীক্ষকই তো হতে পারেন না, পরীক্ষক হলে দীর্ঘদিন পর তাকে প্রধান পরীক্ষক করা হয়।

গনিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়ে কীভাবে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হলেন জানতে চাইলে কেএসপি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন নিজেকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। বলেন, আমি ৭ বছর শিক্ষকতা করছি। ২০১৭ সাল থেকে খাতা দেখি। আমাদের সময় এসব (সাবজেক্ট নির্ধারণ) কোনও বিষয় ছিল না। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এমপিওভুক্ত। তখন সাবজেক্টের নাম ছিল না। পরে আমাদের সমন্বয় করা হয়েছে। যারা প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন, তারাই ওই বিষয়ে ওপর পরীক্ষক হতে পারবে।

রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সনদ নিয়েছেন গনিত (বিএসসি শিক্ষক) বিষয়ে। গনিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কীভাবে ইংরেজি প্রধান পরীক্ষক হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করালেই ওই বিষয়ের পরীক্ষক হওয়া যায়। বোর্ডের নিয়মেও বলা হয়। তাছাড়া সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব ঘটনা ঘটছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে যাচাই করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, যখন পরীক্ষক হন তখন যিনি বা যারা তথ্য দেন, সেই আলোকেই তিনি পরীক্ষক হয়ে আসছেন। এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়।

এই বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবীর উদ্দীন আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের যে প্রগ্রামিংটা করা হয়ে থাকে তা অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঠিক করে দেন কে পরীক্ষক হবেন। এটা যদি হয়ে থাকে, সে জন্য শিক্ষা বোর্ড দায়ী নয়। গত বছর লক্ষ্মীপুরের একটি স্কুলের শিক্ষক নিয়ে ঝামেলায় পরেছিলাম। একাজটি লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশি করছে। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ এমন অনিয়ম করে থাকেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ইংরেজি পরীক্ষক প্রায় ৪’শ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ১৪৫ জন। বাংলা ২য় পরীক্ষক প্রায় ২৬৫ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ৯৬ জন। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষা উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বহীনতার কারণে ইংরেজিতে ৩ জন ও বাংলা ২য় বিষয়ের ১জন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ৪ জন শিক্ষককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

লক্ষ্মীপুরে গনিত-শারীরীক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজি-বাংলা ২য় বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক কিভাবে !

আডেট সময় ০৯:০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ: রিয়াজ উদ্দিন , পড়াশোনা করেছেন গনিত বিষয় নিয়ে। আর শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেনও গনিত বিষয়ে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানও করান গণিত বিষয়ে। তিনি আবার প্রতিষ্ঠান প্রধানও। আরেকজন রয়েছেন ওমর ফারুক, তিনি শারিরীক শিক্ষা বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। আর শিক্ষক হিসেবেও এমপিওভুক্ত হয়েছেন শারিরীক শিক্ষা বিষয়ে। কিন্তু প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন বাংলা ২য়পত্র।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বামনী ইউপির কাপিলাতুলি এলাকায় কাপিলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে (কেএসপি)। শুধু তাই নয় রিয়াজ উদ্দিন এখন ইংরেজি প্রধান পরীক্ষক। আর ওমর ফারক রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির শারিরীক শিক্ষক। এই বিষয়টি নিয়ে বিব্রত অন্য বিষয়ে পরীক্ষকরা (শিক্ষক)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বামনী ইউপির কাপিলাতুলি গ্রামের কেএস পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে গনিত বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক পরিচয় দেন। এতে গণিতে মূল শিক্ষকরা বিব্রত বোধ করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, তিনি নীজেই প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার সুবাধে প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফরম ই-টিআইএফ ফরমে গণিতের শিক্ষক হিসেবে তথ্য দেন। এই তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানপ্রধানের। কারণ কে কোন বিষয়ের শিক্ষক তা জানেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। তাই তথ্য যাচাই করে বোর্ডে পাঠানোর দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানের। এখানে তিনি নীজেই তো প্রধান। তাহলে কে যাচাই করবে। অপরদিকে-ওমর ফারুক রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান এর সহযোগিতা নিয়েই বাংলা ২য় পত্র বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হতে পেরেছেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে সেটি তথ্যদাতা হিসেবে পরীক্ষক এবং পরীক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। গনিত বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজি পরীক্ষকই তো হতে পারেন না, পরীক্ষক হলে দীর্ঘদিন পর তাকে প্রধান পরীক্ষক করা হয়।

গনিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়ে কীভাবে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হলেন জানতে চাইলে কেএসপি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন নিজেকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। বলেন, আমি ৭ বছর শিক্ষকতা করছি। ২০১৭ সাল থেকে খাতা দেখি। আমাদের সময় এসব (সাবজেক্ট নির্ধারণ) কোনও বিষয় ছিল না। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এমপিওভুক্ত। তখন সাবজেক্টের নাম ছিল না। পরে আমাদের সমন্বয় করা হয়েছে। যারা প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন, তারাই ওই বিষয়ে ওপর পরীক্ষক হতে পারবে।

রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সনদ নিয়েছেন গনিত (বিএসসি শিক্ষক) বিষয়ে। গনিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কীভাবে ইংরেজি প্রধান পরীক্ষক হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করালেই ওই বিষয়ের পরীক্ষক হওয়া যায়। বোর্ডের নিয়মেও বলা হয়। তাছাড়া সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব ঘটনা ঘটছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে যাচাই করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, যখন পরীক্ষক হন তখন যিনি বা যারা তথ্য দেন, সেই আলোকেই তিনি পরীক্ষক হয়ে আসছেন। এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়।

এই বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবীর উদ্দীন আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের যে প্রগ্রামিংটা করা হয়ে থাকে তা অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঠিক করে দেন কে পরীক্ষক হবেন। এটা যদি হয়ে থাকে, সে জন্য শিক্ষা বোর্ড দায়ী নয়। গত বছর লক্ষ্মীপুরের একটি স্কুলের শিক্ষক নিয়ে ঝামেলায় পরেছিলাম। একাজটি লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশি করছে। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ এমন অনিয়ম করে থাকেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ইংরেজি পরীক্ষক প্রায় ৪’শ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ১৪৫ জন। বাংলা ২য় পরীক্ষক প্রায় ২৬৫ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ৯৬ জন। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষা উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বহীনতার কারণে ইংরেজিতে ৩ জন ও বাংলা ২য় বিষয়ের ১জন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ৪ জন শিক্ষককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।