ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা চন্দ্রগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী

আইনের লোক পরিচয় দিয়ে যুবককে তুলে নিয়ে অস্ত্র-মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে রঞ্জু নামে প্রবাস ফেরত এক যুবককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র-মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।  রোববার (৭ জুন) বিকেলে জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রঞ্জুর স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী রঞ্জু গত ৫ জুন সন্ধ্যায় বাড়িতে ভাত খাওয়া অবস্থায় ছিলো। তখন সন্ত্রাসী ফরিদসহ কয়েকজন এসে আমাদের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। ঘরে ঢুকে তারা আমার স্বামীকে ভাত খাওয়া অবস্থা মারধর করতে করতে তাকে বেঁধে বের করে নিয়ে যায়। সে সময় রঞ্জুর কাছে কোনো অস্ত্র-মাদক ছিলোনা। উপস্থিত বাড়ির লোকজনের সামনেই তারা আমার স্বামীকে মেরে ঘর থেকে বেঁধে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় ফরিদসহ তার সাথে থাকা লোকজন আমার ১ লক্ষ টাকা দামের দুটি মোবাইল ফোন ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় এঘটনা ঘটলেও রাত ১১ টার সময় পালেরহাট বাজারে নিয়ে ফরিদ বাহিনী আবারও আমার স্বামীকে বেদম মারধর করে। পরে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে ভিডিও করে পুলিশে তুলে দেয়।
রঞ্জুর বাবা ইউসুফ বলেন, আমার ছেলে বিদেশ থেকে এসেছে ৬ মাস হয়েছে। এখন অন্য দেশে যাওয়া জন্য বাড়িতে আছে। আমার ছেলে আগে এক সময় আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে চলাফেরা করতো। এজন্য ফরিদ শত্রুতা করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলে অস্ত্র ও মাদকের সাথে জড়িত নয়।
রঞ্জুর মা শাহিনুর বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ধরে ব্যাপক মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায়। আমি তাদের পায়ে ধরছি, তাও ছাড়েনি। সে অপরাধী হলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। অপরাধীকে ধরার কাজ হচ্ছে প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসনের কাজ ফরিদ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা কেন করে। এগুলো কি তাদের কাজ.?
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন মহিলা বলেন, রঞ্জুকে মারার সময় আমরা দেখেছি, তখন তার কাছে কোনো অস্ত্র ও মাদক ছিলো না। ফরিদ তাকে তুলে নিয়ে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফরিদের লোক হলে সব কিছু ঠিক আছে। আর ফরিদের কথা না শুনলে সে এখন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং নিরপরাধা রঞ্জুর মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রঞ্জু স্ত্রী মুন্নী আক্তার, মা শাহিনুর বেগম, বাবা- ইউসুফ এবং প্রতিবেশি কয়েকজন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

আইনের লোক পরিচয় দিয়ে যুবককে তুলে নিয়ে অস্ত্র-মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

আডেট সময় ১১:১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে রঞ্জু নামে প্রবাস ফেরত এক যুবককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র-মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।  রোববার (৭ জুন) বিকেলে জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রঞ্জুর স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী রঞ্জু গত ৫ জুন সন্ধ্যায় বাড়িতে ভাত খাওয়া অবস্থায় ছিলো। তখন সন্ত্রাসী ফরিদসহ কয়েকজন এসে আমাদের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। ঘরে ঢুকে তারা আমার স্বামীকে ভাত খাওয়া অবস্থা মারধর করতে করতে তাকে বেঁধে বের করে নিয়ে যায়। সে সময় রঞ্জুর কাছে কোনো অস্ত্র-মাদক ছিলোনা। উপস্থিত বাড়ির লোকজনের সামনেই তারা আমার স্বামীকে মেরে ঘর থেকে বেঁধে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় ফরিদসহ তার সাথে থাকা লোকজন আমার ১ লক্ষ টাকা দামের দুটি মোবাইল ফোন ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় এঘটনা ঘটলেও রাত ১১ টার সময় পালেরহাট বাজারে নিয়ে ফরিদ বাহিনী আবারও আমার স্বামীকে বেদম মারধর করে। পরে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে ভিডিও করে পুলিশে তুলে দেয়।
রঞ্জুর বাবা ইউসুফ বলেন, আমার ছেলে বিদেশ থেকে এসেছে ৬ মাস হয়েছে। এখন অন্য দেশে যাওয়া জন্য বাড়িতে আছে। আমার ছেলে আগে এক সময় আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে চলাফেরা করতো। এজন্য ফরিদ শত্রুতা করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলে অস্ত্র ও মাদকের সাথে জড়িত নয়।
রঞ্জুর মা শাহিনুর বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ধরে ব্যাপক মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায়। আমি তাদের পায়ে ধরছি, তাও ছাড়েনি। সে অপরাধী হলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। অপরাধীকে ধরার কাজ হচ্ছে প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসনের কাজ ফরিদ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা কেন করে। এগুলো কি তাদের কাজ.?
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন মহিলা বলেন, রঞ্জুকে মারার সময় আমরা দেখেছি, তখন তার কাছে কোনো অস্ত্র ও মাদক ছিলো না। ফরিদ তাকে তুলে নিয়ে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফরিদের লোক হলে সব কিছু ঠিক আছে। আর ফরিদের কথা না শুনলে সে এখন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং নিরপরাধা রঞ্জুর মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রঞ্জু স্ত্রী মুন্নী আক্তার, মা শাহিনুর বেগম, বাবা- ইউসুফ এবং প্রতিবেশি কয়েকজন।