ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা চন্দ্রগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে বহালের দাবীতে মানববন্ধন

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৫:১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • 79

রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পুর্ণমন্ত্রীতে পুনর্বহাল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্তানুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন এবং অ-উপজাতীয় প্রতিমন্ত্রীর পরিবর্তে চুক্তির বিধান মেনে উপজাতীয় প্রতিনিধিকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে রাঙামাটিতে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ী ও বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

লংগদুর কালাপাগুজ্যা মৌজার হেডম্যান মো. মীর সিরাজ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ সভাপতি সুজিত দেওয়ান, জেলা কার্বারী সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের নেতা স্বপন মল্লিক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুর জাহান পারুল, মহিলা হেডম্যান মানুচিং মারমা। মানববন্ধনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি সম্প্রতি বজায় রাখা ও উন্নয়নের স্বার্থে দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে বহালের দাবী জানান।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রশাসনিক স্থবিরতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে চলমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী— “উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে এবং এই মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করিবার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইবে।” কিন্তু বর্তমান নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অ-উপজাতীয় প্রতিনিধিকে দায়িত্ব প্রদান করায় তা চুক্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক ও বিধিবহির্ভূত বলে নাগরিক সমাজ মনে করে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অ-উপজাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পার্বত্য চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য পদত্যাগকারী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিভিন্ন মহল ও সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায় যে, তিনি স্বেচ্ছায় নয় বরং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে চরম স্থবিরতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক শান্তি, সম্প্রীতি ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি অক্ষরের সঠিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য। অবিলম্বে বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে চুক্তির শর্ত মোতাবেক উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিনিধিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া হলে, আগামীতে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে বহালের দাবীতে মানববন্ধন

আডেট সময় ০৫:১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পুর্ণমন্ত্রীতে পুনর্বহাল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্তানুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন এবং অ-উপজাতীয় প্রতিমন্ত্রীর পরিবর্তে চুক্তির বিধান মেনে উপজাতীয় প্রতিনিধিকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে রাঙামাটিতে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ী ও বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

লংগদুর কালাপাগুজ্যা মৌজার হেডম্যান মো. মীর সিরাজ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ সভাপতি সুজিত দেওয়ান, জেলা কার্বারী সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের নেতা স্বপন মল্লিক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুর জাহান পারুল, মহিলা হেডম্যান মানুচিং মারমা। মানববন্ধনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি সম্প্রতি বজায় রাখা ও উন্নয়নের স্বার্থে দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে বহালের দাবী জানান।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রশাসনিক স্থবিরতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে চলমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী— “উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে এবং এই মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করিবার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইবে।” কিন্তু বর্তমান নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অ-উপজাতীয় প্রতিনিধিকে দায়িত্ব প্রদান করায় তা চুক্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক ও বিধিবহির্ভূত বলে নাগরিক সমাজ মনে করে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অ-উপজাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পার্বত্য চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য পদত্যাগকারী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিভিন্ন মহল ও সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায় যে, তিনি স্বেচ্ছায় নয় বরং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে চরম স্থবিরতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক শান্তি, সম্প্রীতি ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি অক্ষরের সঠিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য। অবিলম্বে বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে চুক্তির শর্ত মোতাবেক উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিনিধিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া হলে, আগামীতে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।