রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অপরুপ দাস নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ইটের খোয়ার স্তূপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৩ নম্বরের ওয়ার্ডের চরআফজল গ্রামের আছিয়া মার্কেট সংলগ্ন চরআফজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহছেনা বেগম নুরানী মাদরাসা। অভিযুক্ত অপরুপ দাস রামগতি পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নীলিমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ও মাদরাসার মাঠের মাঝখানে ইটের খোয়ার স্তূপ। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পুর্ন মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে রাস্তার মালামাল।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার ‘গাজী লক্ষ্মী সংযোগ’ রোডের এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির ব্যবস্থাপনায় আছিয়া মার্কেট থেকে খুশরু মিয়ার মৎস্য খামার পর্যন্ত পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তার কাজটি পায় রামগতি পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি ও মেসার্স নীলিমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অপরুপ দাস। তিনি কাজটি নিজে না করে অন্যের কাছে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন লোকজনের সাথে দরদাম করেন। কিন্তু দামের বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘ ৭ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি ওই রাস্তার কাজ শুরু করেননি। ৭ মাসের বেশী সময় ধরে মালামাল এনে স্কুল ও মাদরাসা মাঠে রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমনিতে আমাদের মাঠ অনেক ছোট। সেখানে এসব মালামাল রাখার কারণে ছাত্র ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারছেনা। স্কুলের পাশে মাদরাসার মাঠও সে দখল করে রেখেছে। একজন মানুষ মারা গেলে জানাজার নামাজ পড়ানোর কোন ব্যবস্থা নেই। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত, বিলকুছ, নুরবানু বলেন, বিদ্যালয়ে ইটের-খোয়া রাখার কারণে খেলাধুলা করতে পারছি না। আমরা দ্রুত এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবির চন্দ্র দে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে এসব রাখার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছেন না। আমি বাঁধা দিলে ঠিকাদারের রোষানলে পড়ি। তারা সন্ত্রাসী এনে আমাকে হেনস্তা পর্যন্ত করেছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অপরুপ দাস ৭ মাস ধরে আমাদের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ইটের খোয়ার স্তূপ দিয়ে রেখেছে। গত কিছুদিন আগে দুইজন লোক মারা গেলে আমরা জানাজার নামাজ পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা করতে পারিনি। এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার অপরুপ দাস বলেন, কাজটি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার জন্য একজন মূলামুলি করছে। ভাল দাম পেলে বিক্রি করে দিবো। জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে স্কুল ও মাদরাসার মাঠে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। খোঁজ খবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিবেন।
মেঘনার তীর 



















