তাবারক হোসেন আজাদ: সড়ক পাকা হবে। গ্রামের মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাবেন। বছরের পর বছর এমন প্রত্যাশার পর অবশেষে শুরু হয়েছে রাস্তা পাকা করার কাজ। তবে জনগণ তাতে খুশি হতে পারছেন না। কারণ, বহুল প্রত্যাশিত এই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। হাত দিলেই ভেঙে যাচ্ছে ইটের খোয়া।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউপির কাঞ্চনপুর-শীবপুর গ্রামে রুস্তমআলী ডিগ্রী কলেজ গেট-বাংলাবাজার তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের চিত্র এটি। সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৬ সালে ২৬ জানুয়ারী কার্যাদেশ পায় লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানজিদ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোক্তার হোসেন। করবো করছি বলে গত বছর কাজটি শুরু করেননি তিনি। গত ২০দিন ধরে সড়ক পাকাকরণ কাজ শুরু করছেন সদর উপজেলার সাব ঠিকাদার আলমগীর হোসেন।
রুস্তমআলী ডিগ্রী কলেজ গেট –বাংলাবাজার
পর্যন্ত এক কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যায়ে জিরো জিরো থেকে তিন হাজার বিশ মিটার (তিন কিলোমিটার) সড়কের পাকাকরণ কাজ চলছে। সড়কে মাটি ফেলার পর বর্তমানে ইট- সুরকি ফেলে মেকাডমের কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। সড়কে ব্যবহার করা ইট-সুরকিসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী খুবই নিম্নমানের। পা দিয়ে কিংবা হাত দিয়ে জোরে চাপ দিলেই ইট ভেঙে গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী এ বিষয়ে বাঁধা দিলেও ঠিকাদার তা মানছেন না। নিম্নমান এর সামগ্রী দিয়েই দেদারসে কাজ করা হচ্ছে।
‘আমরা জেনেশুনেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছি। কারণ, ভালো সামগ্রী ব্যবহার করলে বেশি লাভ করা সম্ভব না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাধা দিলে ম্যানেজ করা হবে।’
শীবপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিন হোসেন বলেন, ‘আশপাশে হাট-বাজারসহ স্কুল-মাদরাসা ও ডিগ্রী কলেজ রয়েছে। সড়কটি ভালোভাবে নির্মাণ করলে সব মানুষের সুবিধা হতো। কিন্তু রাস্তার পাশের ময়লা ও ঘাসের ওপরে রাখা নিম্নমানের ইট-সুরকি রাস্তায় ফেলে মেকাডমের কাজ করা হচ্ছে। বাঁধা দিলেও ঠিকাদারের লোকজন গায়ের জোরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এই নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের কাজ করলে ছয় মাসও টিকবে না।’
স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ এক কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। মেসার্স তানজিদ এন্টারপ্রাইজনামের লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিলো। তিনি আবার আলমগীর হোসেন নামে আরেক ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি করেছেন।
‘সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতেও কাজ চলমান রাখলে অথবা শিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ না করলে বিল তুলতে দেওয়া হবে না।’
সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ কিছুটা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছি। কারণ, ভালো সামগ্রী ব্যবহার করলে বেশি লাভ করা সম্ভব না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাধা দিলে ম্যানেজ করা হবে।’ তাছাড়া রায়পুরের যুবদলের নেতা আরমান সাহেব ৬০ টির মত রাস্তার কাজ করছেন, সেখানে গিয়ে তো রিপোট লিখতে পারছেননা। ভয় পান ?
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, ‘সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কাজ চলমান রাখলে অথবা শিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ না করলে বিল তুলতে দেওয়া হবে না।’
মেঘনার তীর 


















