ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

লক্ষ্মীপুরে কমছেনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ন, ৫দিনে ৭৮৮জন আটক

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৯:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 93

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে কোনভাবে কমছেনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ন। ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিনের অভিযানে ৭শ ৮৮জনকে আটক করে জেলা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপরও নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা এই উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচার। সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। এ মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪৭জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। আর ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়। তবে জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং চক্র রয়েছে। এদের সদস্য সংখ্যাও প্রায় এক হাজারের বেশি। এখন পর্যন্ত মূল হোতাদের আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের বালিকা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে,ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ,বাগবাড়ি, নতুন সরকারী মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস এলাকা,চন্দ্রগঞ্জে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,মান্দারী বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিছু কিশোর বসে আড্ডা দিচ্ছিল। বিশেষ করে সরকারী বালিকা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দোকানে ৮/১০জন কিশোর বসে চা খাচ্ছিল। এসময় দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটির পর তাদের পিছনে পিছনে যেতে দেখা যায়। এমনকি নানা ধরনের গান-বাজনা করতে দেখা যায়। এইভাবে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে বিরক্ত করছে এসব উঠতি বয়সী কিশোররা। শুধু এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নয়, প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের আশপাশে এটি এখনও চলমান রয়েছে।

এসময় দুইজন শিক্ষকের সাথে কথা হয়,তারা বলেন, কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে অনেকেই কথা বলছেনা। কারন হঠাৎ করে কিছু বললে মারধর করে। বর্তমানে জেলাব্যাপী যে অভিযান চলছে। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে কিশোর গ্যাংদের দমানে গিয়ে যেন সাধারন কোন মানুষ হয়রানীর শিকার না হয়,সেটাও আইনশৃংখলা বাহিনীকে দেখতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, যে পরিমান কিশোর গ্যাংদের ধরা হচ্ছে। আবার অভিভাববকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সেখানে লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং চক্র রয়েছে। এদের সদস্য সংখ্যাও প্রায় এক হাজারের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও কম নয়। প্রায়ই কিশোর গ্যাংদের মধ্যে মারামারিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর আগের চার দিনের এই অভিযানে ৬৫৩জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ জানান. উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি আটক কিশোরদের তথ্য-যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। এটি চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে অভিযান হয়েছে। সেখানে ৭৮৮জনকে আটক করা হয়। ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। কিশোর গ্যাংদের মূল শেল্টার দাতাদের খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

লক্ষ্মীপুরে কমছেনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ন, ৫দিনে ৭৮৮জন আটক

আডেট সময় ০৯:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে কোনভাবে কমছেনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ন। ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিনের অভিযানে ৭শ ৮৮জনকে আটক করে জেলা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপরও নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা এই উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচার। সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। এ মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪৭জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। আর ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়। তবে জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং চক্র রয়েছে। এদের সদস্য সংখ্যাও প্রায় এক হাজারের বেশি। এখন পর্যন্ত মূল হোতাদের আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের বালিকা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে,ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ,বাগবাড়ি, নতুন সরকারী মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস এলাকা,চন্দ্রগঞ্জে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,মান্দারী বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিছু কিশোর বসে আড্ডা দিচ্ছিল। বিশেষ করে সরকারী বালিকা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দোকানে ৮/১০জন কিশোর বসে চা খাচ্ছিল। এসময় দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটির পর তাদের পিছনে পিছনে যেতে দেখা যায়। এমনকি নানা ধরনের গান-বাজনা করতে দেখা যায়। এইভাবে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে বিরক্ত করছে এসব উঠতি বয়সী কিশোররা। শুধু এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নয়, প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের আশপাশে এটি এখনও চলমান রয়েছে।

এসময় দুইজন শিক্ষকের সাথে কথা হয়,তারা বলেন, কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে অনেকেই কথা বলছেনা। কারন হঠাৎ করে কিছু বললে মারধর করে। বর্তমানে জেলাব্যাপী যে অভিযান চলছে। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে কিশোর গ্যাংদের দমানে গিয়ে যেন সাধারন কোন মানুষ হয়রানীর শিকার না হয়,সেটাও আইনশৃংখলা বাহিনীকে দেখতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, যে পরিমান কিশোর গ্যাংদের ধরা হচ্ছে। আবার অভিভাববকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সেখানে লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং চক্র রয়েছে। এদের সদস্য সংখ্যাও প্রায় এক হাজারের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও কম নয়। প্রায়ই কিশোর গ্যাংদের মধ্যে মারামারিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর আগের চার দিনের এই অভিযানে ৬৫৩জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ জানান. উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি আটক কিশোরদের তথ্য-যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। এটি চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে অভিযান হয়েছে। সেখানে ৭৮৮জনকে আটক করা হয়। ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২০৬জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। কিশোর গ্যাংদের মূল শেল্টার দাতাদের খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।