ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রামগতিতে “ঘোষণা ছাড়াই স্কুল কমিটির নির্বাচন স্থগিত, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক”

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 48

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি\:লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের সব আয়োজন সম্পন্ন করার পর ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ওই নির্বাচন স্থগিত করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

উপজেলার রামগতি আছিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে হঠাৎ মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নির্বাচন স্থগিত করার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে রামগতি আছিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই দায়িত্বে রয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী অক্টোবরের ৬ তারিখে মনোনয়নপত্র জমা, ১০ তারিখে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই ও বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও ১১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র  প্রত্যাহার শেষ করে প্রতিক বরাদ্দের কথা থাকলেও ওই দিন প্রার্থীদেরকে প্রতিক না দিয়ে ১২ তারিখে হঠাৎ মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করার ঘোষণা।দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসার মো. রেজাউল করিম।

এরই মধ্যে অভিভাবক সদস্য পদ ছাড়া বাকী পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন প্রার্থীরা। অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মীর জিয়াউর রহমান সুমনকে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন, চাপপ্রয়োগ ও নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়। নির্বাচন স্থগিত করা ও গোপনে অন্য প্রার্থীদের বিজয় করে মীর জিয়াউর রহমান সুমনকে পরাজিত করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন সুমন। তার দাবি চিঠির মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। আবার নির্বাচন স্থগিত করলে তাও চিঠির মাধ্যমে হবে। কিন্তু তা না করে প্রধান শিক্ষক তাকে টেলিফোনে নির্বাচন স্থগিত করার খবর দেয়, এতে বুঝা যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রিজাইডিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে তাকে পরাজিত করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাকের হোসেন, ছানা উল্লাহ ও নিজাম উদ্দিন সহ অন্তত ২০ জন  অভিভাবক বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো যৌক্তিক কারণে নির্বাচন স্থগিতের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের তা অবহিত করা এবং সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা উচিত ছিল।

অভিভাবক সদস্য পদের প্রার্থী মীর জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, যখন জমজমাট প্রচার প্রচারণা চলছিল, তখন হঠাৎ করে কোন চিঠিপত্র প্রেরণ না করে মৌখিকভাবে নির্বাচন বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ নির্বাচন বন্ধের পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তবুও প্রধান শিক্ষক হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে প্রার্থীদেরকে নির্বাচন স্থগিত করার সংবাদটি জানিয়ে দিয়েছেন মাত্র। অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, নিয়মানুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করি। পরে জানতে পারলাম এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা বোর্ড সারাদেশে নির্বাচন না করার নির্দেশ দিয়েছেন।  সে জন্য আমরা প্রথমে মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য বলি। এখন শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করা যাবেনা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রামগতিতে “ঘোষণা ছাড়াই স্কুল কমিটির নির্বাচন স্থগিত, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক”

আডেট সময় ১০:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি\:লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের সব আয়োজন সম্পন্ন করার পর ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ওই নির্বাচন স্থগিত করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

উপজেলার রামগতি আছিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে হঠাৎ মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নির্বাচন স্থগিত করার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে রামগতি আছিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই দায়িত্বে রয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী অক্টোবরের ৬ তারিখে মনোনয়নপত্র জমা, ১০ তারিখে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই ও বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও ১১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র  প্রত্যাহার শেষ করে প্রতিক বরাদ্দের কথা থাকলেও ওই দিন প্রার্থীদেরকে প্রতিক না দিয়ে ১২ তারিখে হঠাৎ মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করার ঘোষণা।দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসার মো. রেজাউল করিম।

এরই মধ্যে অভিভাবক সদস্য পদ ছাড়া বাকী পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন প্রার্থীরা। অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মীর জিয়াউর রহমান সুমনকে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন, চাপপ্রয়োগ ও নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়। নির্বাচন স্থগিত করা ও গোপনে অন্য প্রার্থীদের বিজয় করে মীর জিয়াউর রহমান সুমনকে পরাজিত করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন সুমন। তার দাবি চিঠির মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। আবার নির্বাচন স্থগিত করলে তাও চিঠির মাধ্যমে হবে। কিন্তু তা না করে প্রধান শিক্ষক তাকে টেলিফোনে নির্বাচন স্থগিত করার খবর দেয়, এতে বুঝা যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রিজাইডিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে তাকে পরাজিত করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাকের হোসেন, ছানা উল্লাহ ও নিজাম উদ্দিন সহ অন্তত ২০ জন  অভিভাবক বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো যৌক্তিক কারণে নির্বাচন স্থগিতের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের তা অবহিত করা এবং সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা উচিত ছিল।

অভিভাবক সদস্য পদের প্রার্থী মীর জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, যখন জমজমাট প্রচার প্রচারণা চলছিল, তখন হঠাৎ করে কোন চিঠিপত্র প্রেরণ না করে মৌখিকভাবে নির্বাচন বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ নির্বাচন বন্ধের পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তবুও প্রধান শিক্ষক হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে প্রার্থীদেরকে নির্বাচন স্থগিত করার সংবাদটি জানিয়ে দিয়েছেন মাত্র। অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, নিয়মানুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করি। পরে জানতে পারলাম এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা বোর্ড সারাদেশে নির্বাচন না করার নির্দেশ দিয়েছেন।  সে জন্য আমরা প্রথমে মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য বলি। এখন শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করা যাবেনা।