তাবারক হোসেন আজাদ: আব্দুল মান্নান (৪২)। তিনি জন্ম থেকেই বধির ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি (দুই চোখ অন্ধ)। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসটার্মিনাল এলাকায় যাত্রী বাহী পরিবহন ধোয়া-মোছার কাজ করার সময় চালকের অসাবধানতায় মান্নানের ডান পা ভেঙ্গে ফেলে। সেই থেকে গত তিন বছর ধরে স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বধির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি পঙ্গু আবদুল মান্নানের বাড়ী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও সদর উপজেলার কাজিরদিঘির পাড় চৌধুরীবাজার এলাকায়।
আব্দুল মান্নান বলেন, প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বাড়ী থেকে রায়পুর বাস টার্মিনাল এলাকায় এসে (৩০ বছর ধরে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত) দূরপাল্লার যানবাহন ধোয়ামোছার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছিলাম। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কারও কাছে হাত না পাতিনি বা ভিক্ষাবৃত্তি করিনি। পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে চেয়েছিলাম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কাজের মাধ্যমে জীবনধারণ বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু তা আর হলোনা।
তিনি আরও বলেন, আমার চোখের দৃষ্টি না থাকলেও শুধু হাতের স্পর্শ ও অনুমানের ওপর ভর করে দূরপাল্লার বাসের ভেতরের ও বাইরের অংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে পারতাম। বাস টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক, চালক ও কাউন্টারের লোকজন তার আমার এই সততা ও পরিশ্রমকে সম্মান জানিয়ে নিয়মিত আয় সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ তিন বছর আমি স্ত্রী-চার সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমার স্ত্রী গৃহিনী, বড় মেয়ে ৯ম শ্রেণীতে, মেজো মেয়ে ৭ম শ্রেণীতে, তয় মেয়ে ৫ম শ্রেণী ও এক ছেলে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ছে। মানবেতর জীবন-যাপন করছি। সরকার আমাকে প্রতিবন্ধি ভাতা বাবদ প্রতি তিন মাস পরপর ৯’শ টাকা করে দিচ্ছেন। লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক যদি বাড়ীর সামনে একটি দোকান করে দিলে আমি খুব উপকৃত হতাম।
রায়পুরে মানবাধিকার সংগঠক এমএ রহিম বলেন, আবদুল মান্নান সমাজের অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সরকার তার বাড়ীর সামনে এক দোকানের ব্যাবস্থা করে দিলে অসহায় নিরীহ পরিবারটি উপকৃত হবেন।।
মেঘনার তীর 


















