ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

ইজারা বালু উত্তোলনের জের, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধে ২০ কিলোমিটার যানজট

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • 94

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজার নামে বালুমহাল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সীমানা থেকে। গত কয়েক মাস ধরে জোর করে এই বালু উত্তোলনে এলাকায় বিপর্যয় দেখা দেয়। আর এতে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন চর-সোনারামপুর গ্রামের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করেন তারা। এসময়
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। ১২ টা থেকে দুপুর আড়াইটায় প্রায় আড়াই ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যহার করা হয়। তবে এই সময়ে উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মেঘনা সেতু পেরিয়ে ভৈরব পর্যন্ত এবং পূর্ব পাশে বেরতলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার করে মোট প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর, লুন্দিয়া ও টুকচানপুর মৌজার মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারা দেয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মেসার্স শফিক ট্রেডার্স-এর অনুকূলে ওয়ার্ক অর্ডারও জারি করা হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ইজারাভুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত বালু না থাকায় ইজারাদার প্রতিদিন ভোর থেকে প্রায় পাঁচটি ড্রেজার বসিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের ফলে চরসোনারামপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা, আশুগঞ্জ বাজার, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাতীয় গ্রিডের ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি, কৃষিজমি ও নদীতীর ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে নদীভাঙনের আশঙ্কাও দিন দিন বাড়ছে।
চরসোনারামপুরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশই মৎস্যজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতিবছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয় তাদের। বর্তমানে গ্রামের শ্মশান, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শিতল চন্দ্র দাস বলেন, “নদী আমাদের জীবিকার উৎস। কিন্তু অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে এখন সেই নদীই আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিচ্ছে। যেখানে ইজারা দেওয়া হয়নি, সেখানে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরা এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ চাই।”
আরেক বাসিন্দা বিপ্লব কুমার সূত্রধর বলেন, “ড্রেজারের কারণে নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। গ্রামের সামনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশান, মসজিদ ও বসতঘর হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে।”
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা রেজা বলেন, “মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।”
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমানা লঙ্ঘন করে কোথাও বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরও আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর এলাকায় সীমানা লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একাধিক ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। ওই সময় দায়ীদের কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়াও সরকারি কাজে বাধা, প্রশাসনের ওপর হামলা এবং জব্দ করা ড্রেজার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

ইজারা বালু উত্তোলনের জের, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধে ২০ কিলোমিটার যানজট

আডেট সময় ০৬:১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজার নামে বালুমহাল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সীমানা থেকে। গত কয়েক মাস ধরে জোর করে এই বালু উত্তোলনে এলাকায় বিপর্যয় দেখা দেয়। আর এতে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন চর-সোনারামপুর গ্রামের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করেন তারা। এসময়
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। ১২ টা থেকে দুপুর আড়াইটায় প্রায় আড়াই ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যহার করা হয়। তবে এই সময়ে উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মেঘনা সেতু পেরিয়ে ভৈরব পর্যন্ত এবং পূর্ব পাশে বেরতলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার করে মোট প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর, লুন্দিয়া ও টুকচানপুর মৌজার মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারা দেয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মেসার্স শফিক ট্রেডার্স-এর অনুকূলে ওয়ার্ক অর্ডারও জারি করা হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ইজারাভুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত বালু না থাকায় ইজারাদার প্রতিদিন ভোর থেকে প্রায় পাঁচটি ড্রেজার বসিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের ফলে চরসোনারামপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা, আশুগঞ্জ বাজার, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাতীয় গ্রিডের ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি, কৃষিজমি ও নদীতীর ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে নদীভাঙনের আশঙ্কাও দিন দিন বাড়ছে।
চরসোনারামপুরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশই মৎস্যজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতিবছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয় তাদের। বর্তমানে গ্রামের শ্মশান, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শিতল চন্দ্র দাস বলেন, “নদী আমাদের জীবিকার উৎস। কিন্তু অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে এখন সেই নদীই আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিচ্ছে। যেখানে ইজারা দেওয়া হয়নি, সেখানে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরা এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ চাই।”
আরেক বাসিন্দা বিপ্লব কুমার সূত্রধর বলেন, “ড্রেজারের কারণে নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। গ্রামের সামনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশান, মসজিদ ও বসতঘর হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে।”
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা রেজা বলেন, “মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।”
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমানা লঙ্ঘন করে কোথাও বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরও আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর এলাকায় সীমানা লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একাধিক ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। ওই সময় দায়ীদের কারাদণ্ড দেওয়া ছাড়াও সরকারি কাজে বাধা, প্রশাসনের ওপর হামলা এবং জব্দ করা ড্রেজার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।