ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

এমপির বৈঠকও বিফলে: রায়পুরে লোডশেডিংয়ে ৪ লক্ষ মানুষ অতিষ্ঠ !

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • 112

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত তিনদিনের বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোদ, বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ সাধারণ মানুষ। একটু বাতাস হলেই বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রথম শ্রেণীর পৌরশহরে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলেও জনবহুল ১০টি ইউনিয়নে ১২ ঘণ্টাই দেয়া হচ্ছে লোডশেডিং।

শনি, রবি, সোমবার ( ১৩-১৪-১৫ জুন) টানা তিনদিন ধরে চরম লোডশেডিং করা হচ্ছে। সন্ধায় লোডশেডিং দিলে তো ১১টায় সরবরাহ হয়। দশটায় লোডশেডিং দিলে তো মধ্যরাতে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। আবার এক ঘণ্টা দিলে বিকালে আসে, আবার বিকালে এক ঘন্টা দিলে সারা রাতই বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে হাসপাতালের ভর্তি রুগী ও এশিয়ার বৃহত্তম মৎস প্রজনন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেনু পোনা উৎপাদন ব্যাহতসহ ৪ লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন আমাদের চাহিদা ১৯ মেঘাওয়াট, কিন্তু আমাদেরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৫-৬ মেগাওয়াট।

রায়পুরের পার্শ্ববর্তী রামগন্জ উপজেলা থেকে বিদ্যুতের গ্রীড আপডেট দিতে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোন সহযোগিতা পাচ্ছিনা বলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রায়পুরের পল্লী বিদ্যাুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান।

সম্প্রতি রাতে এই লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রায়পুরের চরপাতা ইউপি গাছিরহাট এলাকার রায়পুর-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছের গুরি ও বাঁশ ফেলে রেখে ঘন্টাব্যাপী প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় স্থানীয় এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া গ্রামবাসীদে শান্তনা দেন। ওই রাতে সমস্যার সমাধানের লক্ষে ইউএনও, ওসি, বিত্যুতের ডিজিএম সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এমপি বৈঠক করলেও কোন সমাধান হয়নি।

এই উপজেলায় প্রতিদিন ১৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬-৭ মেগাওয়াট। সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দিনেও হচ্ছে এবং রাতে লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুল-কলেজে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বাসাবাড়ির মানুষের দুর্ভোগে হলেও করার কিছুই নেই বলে জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।

প্রতিদিন রায়পুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। সেখানে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ মেগাওয়াট। উপজেলার ১০টি ইউপিতে বিদ্যুতের গ্রাহক ক্ষুব্ধ। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে দিচ্ছে ফেসবুকে পোস্ট। শহরে ১৫টি হাসপাতাল, ৩’শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,, ৩২টি কাচাঁবাজার, ২৭টি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্যক্রম স্থবিরসহ মানুষে জীবন দুর্বিসহ উঠে।

পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর স্বপন পাটোয়ারী, ব্যাবসায়ী দেলোয়ার ও গৃহিণী তাসলিমা খানম বলেন, কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, হিসাব নেই। গত কয়েকদিন দুপুরে, বিকালে, সন্ধায়, রাত দশটায় টায় বিদ্যুৎ নিয়ে গেলে মধ্যরাতে বিদ্যুত সরবরাহ দেয়া হয়। ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ অসুস্থ মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সময়মতো শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনাও হয় না।

রায়পুরের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, রায়পুরের পাশ্ববর্তী রামগন্জ উপজেলায় গ্রীডে সমস্যা এবং গাছপালা না কাটার কারনে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং হচ্ছে। দশটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ মোট গ্রাহক লক্ষাধিকেরও বেশি। মোট এক হাজার ৩১৮ কিলোমিটারে আবাসিক ৭৯ হাজার ৯২২ এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক সাত হাজার ৬৩৯ জন। কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৯৫ জন। রায়পুর শহর, সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া, চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জ ও চরবংশি ইউপির আখনবাজারে স্থাপিত চারটি অভিযোগ কেন্দ্র। ১২টি ফিডের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে সঞ্চালন লাইন। ৩০ জন লাইনম্যান প্রতিদিন গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার কম থাকায় বিদ্যুৎ–সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দিনে ও রাতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। মানুষের দুর্ভোগ হলেও আমাদের করার কিছুই নেই।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

এমপির বৈঠকও বিফলে: রায়পুরে লোডশেডিংয়ে ৪ লক্ষ মানুষ অতিষ্ঠ !

আডেট সময় ১২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত তিনদিনের বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোদ, বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ সাধারণ মানুষ। একটু বাতাস হলেই বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রথম শ্রেণীর পৌরশহরে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলেও জনবহুল ১০টি ইউনিয়নে ১২ ঘণ্টাই দেয়া হচ্ছে লোডশেডিং।

শনি, রবি, সোমবার ( ১৩-১৪-১৫ জুন) টানা তিনদিন ধরে চরম লোডশেডিং করা হচ্ছে। সন্ধায় লোডশেডিং দিলে তো ১১টায় সরবরাহ হয়। দশটায় লোডশেডিং দিলে তো মধ্যরাতে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। আবার এক ঘণ্টা দিলে বিকালে আসে, আবার বিকালে এক ঘন্টা দিলে সারা রাতই বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে হাসপাতালের ভর্তি রুগী ও এশিয়ার বৃহত্তম মৎস প্রজনন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেনু পোনা উৎপাদন ব্যাহতসহ ৪ লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন আমাদের চাহিদা ১৯ মেঘাওয়াট, কিন্তু আমাদেরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৫-৬ মেগাওয়াট।

রায়পুরের পার্শ্ববর্তী রামগন্জ উপজেলা থেকে বিদ্যুতের গ্রীড আপডেট দিতে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোন সহযোগিতা পাচ্ছিনা বলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রায়পুরের পল্লী বিদ্যাুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান।

সম্প্রতি রাতে এই লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রায়পুরের চরপাতা ইউপি গাছিরহাট এলাকার রায়পুর-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছের গুরি ও বাঁশ ফেলে রেখে ঘন্টাব্যাপী প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় স্থানীয় এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া গ্রামবাসীদে শান্তনা দেন। ওই রাতে সমস্যার সমাধানের লক্ষে ইউএনও, ওসি, বিত্যুতের ডিজিএম সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এমপি বৈঠক করলেও কোন সমাধান হয়নি।

এই উপজেলায় প্রতিদিন ১৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬-৭ মেগাওয়াট। সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দিনেও হচ্ছে এবং রাতে লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুল-কলেজে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বাসাবাড়ির মানুষের দুর্ভোগে হলেও করার কিছুই নেই বলে জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।

প্রতিদিন রায়পুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। সেখানে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ মেগাওয়াট। উপজেলার ১০টি ইউপিতে বিদ্যুতের গ্রাহক ক্ষুব্ধ। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে দিচ্ছে ফেসবুকে পোস্ট। শহরে ১৫টি হাসপাতাল, ৩’শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,, ৩২টি কাচাঁবাজার, ২৭টি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্যক্রম স্থবিরসহ মানুষে জীবন দুর্বিসহ উঠে।

পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর স্বপন পাটোয়ারী, ব্যাবসায়ী দেলোয়ার ও গৃহিণী তাসলিমা খানম বলেন, কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, হিসাব নেই। গত কয়েকদিন দুপুরে, বিকালে, সন্ধায়, রাত দশটায় টায় বিদ্যুৎ নিয়ে গেলে মধ্যরাতে বিদ্যুত সরবরাহ দেয়া হয়। ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ অসুস্থ মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সময়মতো শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনাও হয় না।

রায়পুরের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, রায়পুরের পাশ্ববর্তী রামগন্জ উপজেলায় গ্রীডে সমস্যা এবং গাছপালা না কাটার কারনে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং হচ্ছে। দশটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ মোট গ্রাহক লক্ষাধিকেরও বেশি। মোট এক হাজার ৩১৮ কিলোমিটারে আবাসিক ৭৯ হাজার ৯২২ এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক সাত হাজার ৬৩৯ জন। কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৯৫ জন। রায়পুর শহর, সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া, চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জ ও চরবংশি ইউপির আখনবাজারে স্থাপিত চারটি অভিযোগ কেন্দ্র। ১২টি ফিডের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে সঞ্চালন লাইন। ৩০ জন লাইনম্যান প্রতিদিন গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার কম থাকায় বিদ্যুৎ–সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দিনে ও রাতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। মানুষের দুর্ভোগ হলেও আমাদের করার কিছুই নেই।