তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খাসজমিতে নির্মিত হচ্ছে বিএনপি নেতার বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। পৌরশহরের মধ্যবাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি জমিতে ইমারত নির্মাণ করছেন জামায়াত সমর্থক প্রভাবশালী মোঃ রফিক উল্যাহ । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।এতে বিব্রত হচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। এদিকে- বুধবার দুপুরে (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউএনওর কাছে আমিন, সোহাগ, রুবেল ও ইকবাল লিখিত অভিযোগ দিলেও সরকারের মূল্যবান ওই জায়গা বেহাত হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। এরই মাঝে ওই প্রভাবশালী সেখানে রাতে পিলারও করছেন।
স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওই জায়গাটি নজরে ছিল জামায়াত সমর্থীত এক প্রভাবশালীর। কৌশলে নীজের নামে বন্দোবস্ত নেন। একপর্যায়ে বেআইনিভাবে ভুয়া কাগজপত্র সৃজনের মাধ্যমে জায়গাটি তার নামে রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) করে নেয়া হয়। যদিও খাসজমি রেজিস্ট্রির কোনো বিধান নেই। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তিনি সরকারি জমিটির রেজিস্ট্রি করেন।
এদিকে প্রভাবশালী রফিক উল্যাহ বিতর্কিত ওই জমিতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এতে এলাকার সচেতন মহল তথা স্থানীয়দের মাঝে অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরই মাঝে বিএনপির স্থানীয় সংসদ-সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়ার কাছে নালিশ করেন কয়েকজন ব্যাবসায়ী।।
ভবনটি নির্মাণের শুরুতে উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করলেও এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের বাধার মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি ওই প্রভাবশালী তার প্রভাব খাটিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রফিক উল্যাহ বলেন, ১৯৮৮ সালের দিকে প্রায় ৪ শতাংশ খাসজমি আমার বাবার কাছ থেকে পাওয়া। পরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জায়গাটি আমার নামে নিবন্ধন করেছি। ৩৬ বছর ধরে জায়গাটি আমার দখলে এবং দোকান করছি। সেখানে এখন আমি ৮ তলা ফাউন্ডেশনের এক তলা নতুন ভবন নির্মাণ করছি।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, বেআইনিভাবে দেনায়েতপুর মৌজার দাগ নাম্বার ২৫০০/২৫০১ এর পৌরসভার মধ্যবাজারের কোটি টাকার জায়গাটি বিএস রেকর্ডভুক্ত কি-না তা যাচাই করা হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, কীভাবে রফিক উল্যাহ খাসজমি দখল এবং ভবন নির্মাণ করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া জমি বন্দোবস্ত এবং রেজিস্ট্রির বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হলে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাসের জায়গাটি অবমুক্ত করা হবে।
মেঘনার তীর 



















