ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রামগতি-কমলনগরের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নিজান

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 53

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশমন্ত্রীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। উপজেলা দু’টিতে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর মন্ত্রীকে একটি আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

পত্রে হুইপ নিজান উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের কৃষিজমি স্থানীয় জনগণের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রচলিত আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করছেন। এতে কৃষিজমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলোবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কারণে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষি, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

পত্রে আরও বলা হয়, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহনের কাজে অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ব্যবহারের ফলে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব যানবাহনের কারণে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদন যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন হুইপ নিজান। একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।পত্রে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কৃষিজমি, কৃষকের স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পত্রের অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রামগতি-কমলনগরের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নিজান

আডেট সময় ১০:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশমন্ত্রীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। উপজেলা দু’টিতে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর মন্ত্রীকে একটি আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

পত্রে হুইপ নিজান উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের কৃষিজমি স্থানীয় জনগণের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রচলিত আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করছেন। এতে কৃষিজমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলোবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কারণে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষি, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

পত্রে আরও বলা হয়, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহনের কাজে অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ব্যবহারের ফলে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব যানবাহনের কারণে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদন যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন হুইপ নিজান। একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।পত্রে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কৃষিজমি, কৃষকের স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পত্রের অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।