ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রায়পুরে মা-তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা: সহপাঠীরা ফিরেছে ক্লাসে, ফিরেনি সিফা

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৫:০০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • 143

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: স্কুলের শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিনের মতোই চলছে পাঠদান। শিক্ষক পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সবাই আছে, শুধু নেই ফাতেমা আক্তার সিফা (৯)। তার খালি বেঞ্চটি যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে এক হৃদয়বিদারক শূন্যতার কথা। নিহত সিফা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) সকালে এক মর্মান্তিক ঘটনায় মা ও দুই বোনের সঙ্গে প্রাণ হারায় শিশু সিফা আক্তার। ঘটনার দিন বড় বোন সায়মা আক্তার ঢাকা থেকে বেড়াতে আসায় সেদিন স্কুলে আসেনি সে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের অনেকেরই বিশ্বাস, সেদিন ক্লাসে এলে হয়তো সে বেঁচে যেত।

সিফার সহপাঠী সাকাল জানায়, সিফা আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। বুধবার ক্লাসে আমাদের শেষ কথা হয়। সে বলেছিল, বৃহস্পতিবার আমার বাসায় আসবে। আমি তাকে বলেছিলাম, শুক্রবার আসতে। সেদিন তাকে সময় দেব। কিন্তু এরপর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি। ওই দিনই ছিল আমাদের শেষ কথা।

আরেক সহপাঠী হাসিব জানায়, সিফার জন্য আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। আমরা তার ও তার পরিবারের হত্যার বিচার চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনার রহস্যও উদ্ঘাটন হোক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মাহমুদ বলেন, সিফা ও তার পরিবারের জন্য আমরা বিদ্যালয়ে দোয়ার আয়োজন করেছি। সিফার বড় দুই বোন এবং বর্তমানে জীবিত থাকা ভাই সিফাতও একসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

নূরে আলম মাহমুদ আরও বলেন, নিয়মিত উপস্থিত থাকা সিফার নাম আজ হাজিরা খাতায় চিরদিনের জন্য অনুপস্থিতির তালিকায়। সহপাঠীদের হাসি-আড্ডার মাঝেও তার খালি আসন যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় এক অপূরণীয় ক্ষতির কথা।

স্থানীয়রা জানায়, শাহীনুর বেগমের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে সিফা আক্তার মেধাবী এবং নম্র স্বভাবের ছিল। পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর সুসম্পর্ক ছিল। তাই এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত কর।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার আমীর মাস্টারের বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) হত্যা করা হয়।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি যদি অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রমজান মাসে এক বিকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা কামালকে হারানো সিফাত ২০২৬ সালে হারায় মা ও তিন বোনকে। একের পর এক স্বজন হারানোর এই বেদনাময় অধ্যায় শুধু এক পরিবার নয়, পুরো রায়পুরবাসীকেই গভীরশোকে আচ্ছন্ন করেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রায়পুরে মা-তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা: সহপাঠীরা ফিরেছে ক্লাসে, ফিরেনি সিফা

আডেট সময় ০৫:০০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: স্কুলের শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিনের মতোই চলছে পাঠদান। শিক্ষক পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সবাই আছে, শুধু নেই ফাতেমা আক্তার সিফা (৯)। তার খালি বেঞ্চটি যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে এক হৃদয়বিদারক শূন্যতার কথা। নিহত সিফা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) সকালে এক মর্মান্তিক ঘটনায় মা ও দুই বোনের সঙ্গে প্রাণ হারায় শিশু সিফা আক্তার। ঘটনার দিন বড় বোন সায়মা আক্তার ঢাকা থেকে বেড়াতে আসায় সেদিন স্কুলে আসেনি সে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের অনেকেরই বিশ্বাস, সেদিন ক্লাসে এলে হয়তো সে বেঁচে যেত।

সিফার সহপাঠী সাকাল জানায়, সিফা আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। বুধবার ক্লাসে আমাদের শেষ কথা হয়। সে বলেছিল, বৃহস্পতিবার আমার বাসায় আসবে। আমি তাকে বলেছিলাম, শুক্রবার আসতে। সেদিন তাকে সময় দেব। কিন্তু এরপর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি। ওই দিনই ছিল আমাদের শেষ কথা।

আরেক সহপাঠী হাসিব জানায়, সিফার জন্য আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। আমরা তার ও তার পরিবারের হত্যার বিচার চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনার রহস্যও উদ্ঘাটন হোক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মাহমুদ বলেন, সিফা ও তার পরিবারের জন্য আমরা বিদ্যালয়ে দোয়ার আয়োজন করেছি। সিফার বড় দুই বোন এবং বর্তমানে জীবিত থাকা ভাই সিফাতও একসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

নূরে আলম মাহমুদ আরও বলেন, নিয়মিত উপস্থিত থাকা সিফার নাম আজ হাজিরা খাতায় চিরদিনের জন্য অনুপস্থিতির তালিকায়। সহপাঠীদের হাসি-আড্ডার মাঝেও তার খালি আসন যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় এক অপূরণীয় ক্ষতির কথা।

স্থানীয়রা জানায়, শাহীনুর বেগমের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে সিফা আক্তার মেধাবী এবং নম্র স্বভাবের ছিল। পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর সুসম্পর্ক ছিল। তাই এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাকেই শোকাহত কর।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার আমীর মাস্টারের বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) হত্যা করা হয়।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি যদি অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রমজান মাসে এক বিকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা কামালকে হারানো সিফাত ২০২৬ সালে হারায় মা ও তিন বোনকে। একের পর এক স্বজন হারানোর এই বেদনাময় অধ্যায় শুধু এক পরিবার নয়, পুরো রায়পুরবাসীকেই গভীরশোকে আচ্ছন্ন করেছে।