ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা চন্দ্রগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে, কমেছে দাম,খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৮:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • 120

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। দীর্ঘদিন পর জেলেদের জালে কিছু ইলিশ ধরা পড়ায় আবারো সরগরম হয়ে উঠছে মাছঘাটগুলো। ফলে জেলে পল্লী ও মাছঘাটে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলেরা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবী, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার ইলিশের আভয়শ্রম। এইখানে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন চলছে ইলিশের মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। দীর্ঘদিন পর গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে তুলনামূলক ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যস্ত মৎস্য পল্লীগুলো। তবে মাছের আকার ছোট। গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা কমছে দামও। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। অথাৎ প্রতি কেজি ওজনের ইলিশ ২/৩শ টাকা দাম কমেছে। এদিকে সাগরের ইলিশে সামলাতে হচ্ছে ইলিশের চাহিদা। লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০টি মাছঘাটে মাছের সরবরাহ বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও আড়ৎদাররা। গত কয়েকদিন ধরে মাছের সরবরাহ বাড়ছে। মাছ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে জেলেরা। তবে সামনে মাছ আরো বাড়বে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে এমনটা আশা করেন তারা। গত দুইদিনে মতিরহাট মাছ ঘাট থেকে প্রায় কোটি টাকার ইলিশ আমদানি রপ্তানি হয়েছে বলে জানান মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বুধবার সকালে মতিরহাট ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়. নৌকায় করে ঘাটে মাছ নিয়ে আসছে জেলেরা। সবার চোখে-মুখে আনন্দের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতার সরগমর জমে উঠছে মাছঘাট। সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। এছাড়া প্রকারভেদে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে।

মতিরহাটের সফি মাঝি বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অলস সময় পার করছি। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তিনদিন ধরে জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে ঘাটে মাছ বিক্রি করে আবারো নদীতে মাছ শিকারে নামতে হচ্ছে। এইভাবে মাছ ফেলে আর কোন কষ্ট থাকবেনা। ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি।

মজুচৌধুরীহাট মাছঘাটের জেলে আবুল কালাম ও মিজানুর রহমান জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর পরিমান ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ কিছুটা কম। দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা ইলিশ না পেলেও কয়েকদিন ধরে কিছু মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে মাছের সরবরাহ বাড়ায় কমছে দামও। সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে দাম কমছে তিনশ টাকা। এছাড়া প্রকারভেদে প্রতি হালি মাছের দাম একইভাবে কমছে। সামনে আরো দাম কমবে। পাশাপাশি মাছের সরবরাহ বাড়ার আশা করেন জেলেরা।

এদিকে ক্রেতা মো. ইউসুফ ও আবদুর রহিম বলেন, মাছের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমছে। সামনে আরো কমে আসবে বলে আশা করেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, ভারতে মাছ বিক্রি করায় তার প্রভাব পড়েছে প্রত্যেকটি ঘাটে। প্রকারভেদে এক কেজি ইলিশের হালির দাম কমছে দুইশ থেকে তিনশ টাকা। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারনে ঘাটে মাছের দাম বেড়ে যায়। কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। তাই মনিটরিং করে বাজার স্থিতিশীল করার দাবী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইলিশের মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের সাথে সাথে মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এখন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীতে পানিও বাড়ছে। সামনে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করেন মৎস্য কর্মকর্তা। এবার মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিধার্রন করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

লক্ষ্মীপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে, কমেছে দাম,খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা

আডেট সময় ০৮:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। দীর্ঘদিন পর জেলেদের জালে কিছু ইলিশ ধরা পড়ায় আবারো সরগরম হয়ে উঠছে মাছঘাটগুলো। ফলে জেলে পল্লী ও মাছঘাটে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলেরা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবী, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার ইলিশের আভয়শ্রম। এইখানে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন চলছে ইলিশের মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। দীর্ঘদিন পর গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে তুলনামূলক ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যস্ত মৎস্য পল্লীগুলো। তবে মাছের আকার ছোট। গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা কমছে দামও। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। অথাৎ প্রতি কেজি ওজনের ইলিশ ২/৩শ টাকা দাম কমেছে। এদিকে সাগরের ইলিশে সামলাতে হচ্ছে ইলিশের চাহিদা। লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০টি মাছঘাটে মাছের সরবরাহ বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও আড়ৎদাররা। গত কয়েকদিন ধরে মাছের সরবরাহ বাড়ছে। মাছ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে জেলেরা। তবে সামনে মাছ আরো বাড়বে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে এমনটা আশা করেন তারা। গত দুইদিনে মতিরহাট মাছ ঘাট থেকে প্রায় কোটি টাকার ইলিশ আমদানি রপ্তানি হয়েছে বলে জানান মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বুধবার সকালে মতিরহাট ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়. নৌকায় করে ঘাটে মাছ নিয়ে আসছে জেলেরা। সবার চোখে-মুখে আনন্দের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতার সরগমর জমে উঠছে মাছঘাট। সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুইশ থেকে তিনশ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা। এছাড়া প্রকারভেদে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে।

মতিরহাটের সফি মাঝি বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অলস সময় পার করছি। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তিনদিন ধরে জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে ঘাটে মাছ বিক্রি করে আবারো নদীতে মাছ শিকারে নামতে হচ্ছে। এইভাবে মাছ ফেলে আর কোন কষ্ট থাকবেনা। ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি।

মজুচৌধুরীহাট মাছঘাটের জেলে আবুল কালাম ও মিজানুর রহমান জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর পরিমান ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ কিছুটা কম। দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা ইলিশ না পেলেও কয়েকদিন ধরে কিছু মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে মাছের সরবরাহ বাড়ায় কমছে দামও। সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে দাম কমছে তিনশ টাকা। এছাড়া প্রকারভেদে প্রতি হালি মাছের দাম একইভাবে কমছে। সামনে আরো দাম কমবে। পাশাপাশি মাছের সরবরাহ বাড়ার আশা করেন জেলেরা।

এদিকে ক্রেতা মো. ইউসুফ ও আবদুর রহিম বলেন, মাছের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমছে। সামনে আরো কমে আসবে বলে আশা করেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, ভারতে মাছ বিক্রি করায় তার প্রভাব পড়েছে প্রত্যেকটি ঘাটে। প্রকারভেদে এক কেজি ইলিশের হালির দাম কমছে দুইশ থেকে তিনশ টাকা। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারনে ঘাটে মাছের দাম বেড়ে যায়। কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। তাই মনিটরিং করে বাজার স্থিতিশীল করার দাবী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইলিশের মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুমের সাথে সাথে মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এখন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীতে পানিও বাড়ছে। সামনে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করেন মৎস্য কর্মকর্তা। এবার মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিধার্রন করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন।