ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

৩ লাখ টাকার দলিলে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এমপির ক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৮:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 111

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ৩ লাখ টাকার জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সাবরেজিস্টারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। একই সঙ্গে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো অনিয়ম, ঘুষ বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শনে গেলে এক দলিল গ্রহিতা তাঁর কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। নারিকেলবাড়িয়া এলাকার লোকমান হোসেন ও আব্দুস সোবহান ১০ শতাংশ বাড়ির জমি ৩ লাখ টাকায় কিনে দলিল করেন। জমির দাতা আরিফুর রহমান। অভিযোগ অনুযায়ী, দলিলের বিভিন্ন খরচ বাবদ তাঁদের কাছ থেকে মোট ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
দলিল লেখক আলকাছ হোসেন জানান, ওই দলিলের রেজিস্ট্রেশন ফি ২২ হাজার ৫০০ টাকা, এনফিস ৭০০ টাকা, ভ্যাট ২৩২ টাকা, হলফনামা স্ট্যাম্প ৩৫০ টাকা, দলিল স্ট্যাম্প ৩০০ টাকা, পর্চা সংগ্রহ ৩০০ টাকা, দুটি দলিলের নকল সংগ্রহ বাবদ ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলিল কম্পোজ বাবদ ৫০০ টাকা, ১০ বছরের দাখিলা বাবদ ৬ হাজার টাকা এবং মহুরি ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চান এবং সাবরেজিস্টারের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করেও সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় পরিচয় কিংবা কোনো প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ নেই।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে বাধ্য হবেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে কিংবা সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে অনিয়মের সঠিক তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজাপুর সাবরেজিস্টার মেহেদি হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত বা কোনো প্রকার বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশনের বিভিন্ন ধাপ ও খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা বুঝতে পারেন না। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য বৈধ খরচের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

৩ লাখ টাকার দলিলে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এমপির ক্ষোভ

আডেট সময় ০৮:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ৩ লাখ টাকার জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সাবরেজিস্টারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। একই সঙ্গে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কোনো অনিয়ম, ঘুষ বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শনে গেলে এক দলিল গ্রহিতা তাঁর কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। নারিকেলবাড়িয়া এলাকার লোকমান হোসেন ও আব্দুস সোবহান ১০ শতাংশ বাড়ির জমি ৩ লাখ টাকায় কিনে দলিল করেন। জমির দাতা আরিফুর রহমান। অভিযোগ অনুযায়ী, দলিলের বিভিন্ন খরচ বাবদ তাঁদের কাছ থেকে মোট ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
দলিল লেখক আলকাছ হোসেন জানান, ওই দলিলের রেজিস্ট্রেশন ফি ২২ হাজার ৫০০ টাকা, এনফিস ৭০০ টাকা, ভ্যাট ২৩২ টাকা, হলফনামা স্ট্যাম্প ৩৫০ টাকা, দলিল স্ট্যাম্প ৩০০ টাকা, পর্চা সংগ্রহ ৩০০ টাকা, দুটি দলিলের নকল সংগ্রহ বাবদ ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলিল কম্পোজ বাবদ ৫০০ টাকা, ১০ বছরের দাখিলা বাবদ ৬ হাজার টাকা এবং মহুরি ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চান এবং সাবরেজিস্টারের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করেও সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় পরিচয় কিংবা কোনো প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ নেই।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে বাধ্য হবেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে কিংবা সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে অনিয়মের সঠিক তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজাপুর সাবরেজিস্টার মেহেদি হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত বা কোনো প্রকার বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশনের বিভিন্ন ধাপ ও খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা বুঝতে পারেন না। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য বৈধ খরচের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তারা।