ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থা,কাদা-পানি আর গর্তে চরম ভোগান্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৫:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • 162

স্টাফ রিপোর্টার:  লক্ষ্মীপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস চলাচল করে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের ভোলা-বরিশাল সড়কের শুরুতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা-পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ভারী যানবাহনের চাপে টার্মিনালের গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই টার্মিনাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন শত শত বাস চলাচল করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. সাজিদ বলেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাসচালক শাওন বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে গাড়ির চাকা গর্তে বসে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টার্মিনালসংলগ্ন ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসেন না। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক নয়, এর অবকাঠামোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালটিতে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। এবার তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের মতে, জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাস টার্মিনালের বেহাল চিত্র যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থা,কাদা-পানি আর গর্তে চরম ভোগান্তি

আডেট সময় ০৫:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:  লক্ষ্মীপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস চলাচল করে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের ভোলা-বরিশাল সড়কের শুরুতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা-পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ভারী যানবাহনের চাপে টার্মিনালের গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই টার্মিনাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন শত শত বাস চলাচল করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. সাজিদ বলেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাসচালক শাওন বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে গাড়ির চাকা গর্তে বসে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টার্মিনালসংলগ্ন ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসেন না। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক নয়, এর অবকাঠামোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালটিতে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। এবার তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের মতে, জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাস টার্মিনালের বেহাল চিত্র যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।