ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

জামালপুরে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • 128

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে মৃতদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ  মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই রায় ঘোষনা করেন।  মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- শাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন-  চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা। সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামী এবং বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়- ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন গজারিয়া গ্রামের মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন। অভিযুক্ত সাখাওয়াত ও সোহেল গজারিয়াতে গান গাওয়ার কথা বলে তাঁদের নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁরা আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ মে বিকেলে স্থানীয় ভানু ফকিরের পাটক্ষেতে দুটি ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। স্বজনরা পরনের পোশাক দেখে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন। বিবাদীরা অ্যাসিড দিয়ে তাঁদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে ঘটনাস্থলে লাশ ফেলে রেখে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ১৯ মে সাখাওয়াত, সোহেল, মাফিজুল ও জিয়ারসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে বিবাদী করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করে আদালত। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

জামালপুরে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আডেট সময় ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে মৃতদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ  মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই রায় ঘোষনা করেন।  মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- শাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন-  চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা। সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামী এবং বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়- ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন গজারিয়া গ্রামের মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন। অভিযুক্ত সাখাওয়াত ও সোহেল গজারিয়াতে গান গাওয়ার কথা বলে তাঁদের নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁরা আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ মে বিকেলে স্থানীয় ভানু ফকিরের পাটক্ষেতে দুটি ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। স্বজনরা পরনের পোশাক দেখে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন। বিবাদীরা অ্যাসিড দিয়ে তাঁদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে ঘটনাস্থলে লাশ ফেলে রেখে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ১৯ মে সাখাওয়াত, সোহেল, মাফিজুল ও জিয়ারসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে বিবাদী করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করে আদালত। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।