স্টাফ রিপোর্টার: কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার এক যুগেও পূর্ণাঙ্গ সেবা পায়নি এ অঞ্চলের চার লাখ মানুষ। অবকাঠামো বাড়লেও বাড়েনি জনবল, বরং আগের ৩১ শয্যার অর্ধেকেরও কম লোকবল দিয়ে কোনোমতে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা জনবল সংকটের সুযোগে হাসপাতালে গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিশেষ করে হাসপাতালে কোনো মিডওয়াইফ (প্রশিক্ষিত ধাত্রী) না থাকার সুযোগ নিয়ে ‘গলাকাটা’ ডেলিভারি বাণিজ্যে মেতে ওঠেছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স কুসুম রানী পাইক। দীর্ঘ ২৬ বছর একই কর্মস্থলে থেকে তিনি স্থানীয় প্রসূতিদের কাছে এক আতঙ্ক।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী এখানে ২০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১২ জন। ২৫ জন নার্সের বিপরীতে আছেন ৮ জন। ৪ জন মিডওয়াইফ থাকার কথা থাকলেও শূন্য সবকটি পদ। সরেজমিন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই শূন্যতার কারণে সিনিয়র স্টাফ নার্স কুসুম রানী দীর্ঘ ২৬ বছর একই কর্মস্থলে থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন। অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি অন্য কোথাও বদলি হন না। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ মিডওয়াইফ নিয়োগ না হওয়ার পেছনেও তার নেপথ্য ভূমিকা ও উচ্চমহলে গোপন তদবির রয়েছে। মিডওয়াইফ না থাকায় প্রসূতিদের তার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সুযোগে প্রতিটি স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) জন্য তিনি ৬-৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কুসুম রানীর এই গলাকাটা বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট হলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন। রোগীরা জিম্মি।
হাসপাতালের নথিপত্রে দেখা যায়-একজন গাইনি কনসালটেন্ট এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও গত ৫ বছর ধরে তিনি ডেপুটেশনে রয়েছেন ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে। অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসক দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, এমনকি তিনি কোথায় আছেন বা বেতন তুলছেন কিনা তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও অস্পষ্ট। এই দুই কর্মকর্তার পদ কাগজ-কলমে থাকায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোটি টাকার আধুনিক এক্স-রে, ইসিজি ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিনগুলো টেকনিশিয়ানের অভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ, সার্জন কিংবা চর্ম-চক্ষু-হাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। আউটসোর্সিংয়ের কিছু জনবল নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে নামমাত্র সেবা। নেই কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সুইপার কিংবা নৈশপ্রহরী। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ওয়ার্ডবয়-সব জায়গাতেই শূন্য পদের হাহাকার।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিনিয়র স্টাফ নার্স কুসুম রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ডেলিভারি সেবা প্রদানে ভুক্তভোগীদের থেকে গলাকাটা বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এসব বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মীর আমিনুল ইসলাম জানান, মিডওয়াইফ না থাকায় নার্স কুসুম রানী ডেলিভারি সেবা প্রদান করে থাকেন-মূলত মিডওয়াইফ সংকটের কারণেই কুসুম রানীকে দিয়ে এ সেবাটি চালু রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত লোকবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও লোকবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাধ্যমতো সেবা দিচ্ছি।
মেঘনার তীর 



















