ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

নেত্রকোণায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • 163

নেত্রকোণায় প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব–১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আসামি র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর পালিয়ে যান ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে গত শুক্রবার  মদন উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার মা নিয়ে গেলে সেখানে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।

এলাকাবাসী, মামলার বিবরণ সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সে।

গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেনি। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।

ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট এবং কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা জানা যায়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

নেত্রকোণায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

আডেট সময় ১১:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নেত্রকোণায় প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব–১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আসামি র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর পালিয়ে যান ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে গত শুক্রবার  মদন উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার মা নিয়ে গেলে সেখানে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।

এলাকাবাসী, মামলার বিবরণ সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সে।

গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেনি। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।

ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট এবং কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা জানা যায়।