ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি প্রথম ফ্লাইট দেশে ফিরলেন ৪৪৫ জন হাজী লক্ষ্মীপুরে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের

নেত্রকোণায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • 34

নেত্রকোণায় প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব–১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আসামি র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর পালিয়ে যান ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে গত শুক্রবার  মদন উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার মা নিয়ে গেলে সেখানে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।

এলাকাবাসী, মামলার বিবরণ সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সে।

গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেনি। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।

ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট এবং কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা জানা যায়।

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি

নেত্রকোণায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

আডেট সময় ১১:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নেত্রকোণায় প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব–১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আসামি র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর পালিয়ে যান ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে গত শুক্রবার  মদন উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার মা নিয়ে গেলে সেখানে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।

এলাকাবাসী, মামলার বিবরণ সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সে।

গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেনি। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী তার নানীর কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।

ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট এবং কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা জানা যায়।