ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুরআন প্রতিযোগিতা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে: আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি  মা ইলিশ রক্ষায়: ১৬দিনের অভিযানে আটক ১২৭ জেলে, ৩১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ লক্ষ্মীপুরে মাদক কারবারিকে কুপিয়ে হত্যা প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা চন্দ্রগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী

মা ইলিশ রক্ষায়: ১৬দিনের অভিযানে আটক ১২৭ জেলে, ৩১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৭:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 14

স্টাফ রিপোর্টার:.জাটকা সংরক্ষন ও মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরে ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা জেলেরা। কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে মা ইলিশ নিধন। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করছেন অনেকেই। তবে জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ১৬দিন পার হলেও এখনো সহায়তা পাননি। এছাড়া অন্য পেশা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন,নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ,উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়: প্রতি বছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় হয়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মেঘনা নদীতে ছুটে আসে। এমন বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ৭ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাদপুরের ষাটনল পর্যস্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা। তবে নিষেধাজ্ঞা সময়ে দেয়া খাদ্য সহায়তা কোন কাজে আসছে না বলে জানান জেলেরা। অভিযোগ রয়েছে, নৌ-পুলিশদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে রাত-দিন নদীতে মাছ ধরছে জেলেরা। পরে গোপনে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসন দায় সারাভাবে অভিযান অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযান কোন কাজেই আসছেন না। ১৬দিনে ১৯৬টি অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৬৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৬০জনকে ১লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়মিত মামলা করা হয় ৯১টি। জব্দ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১টি স্পীট বোর্ড ও ১৮টি নৌকা ও প্রায় ৪টন কেজি ইলিশ। অভিযানে গিয়ে হামলার শিকারও হয়েছে কর্মকর্তারা। এতে করে সরকারের যে উদ্দেশ্যে এ নিষেধাজ্ঞা সেটা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা রয়েছে। এসময় প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেকেই পায়নি। পাশাপাশি যারা পেয়েছেন, সেখানেও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করেন জেলেরা। জেলায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১শ ৫০ জেলেকে ১শ ৫৩ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেয় সরকার। অথচ এখনো ১১ হ্জাার ৮শ ৫০ জেলে খাদ্য সহায়তার বাইরে রয়েছে। তাই সরকার যে উদ্দেশ্যে এ নিষেধাজ্ঞা সেটা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করছেন জেলেরা। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেরা যেন এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই প্রত্যাশা তাদের।

জেলেরা জানায়, অন্য পেশা না থাকায় বা কোন কাজকর্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরছেন বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি সরকারের বরাদ্ধকৃত ভিজিএফের চাল প্রকৃত জেলেরা পাচ্ছেনা বলে অভিযান করেন তারা। আবার প্রকৃত জেলেদের না দিয়ে অপেশারদার ও দোকান এবং রিকসা চালকদের দেয়া হচ্ছে। আবার অনেকেই সরকারী আইন মেনে নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু তারা না গেলেও পাশের জেলার জেলে নদীতে নামছে।

মজুচৌধুরীরহাট নৌপুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুর রহমান বলেন, স্বল্ব জনবল নিয়ে প্রতিনিয়ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করেেছ নৌ-পুলিশ। জেলেদের সাথে আতাঁত, অনিয়ম বা ম্যানেজের বিষয়টির সাথে নৌ-পুলিশ জড়িত নয়। সব সময় নদীতে টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাটকা সংরক্ষন ও মা ইলিশ রক্ষায় ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষন, আহরন, পরিবহন, বাজারজাত করন ও মজুদকরন নিষিদ্ধ রয়েছে। এটি অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কোন ভাবে ছাড় দেয়া হবেনা। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩ অক্টোবর ১৬দিনে ১৯৬টি অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৬৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৬০জনকে ১লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়মিত মামলা করা হয় ৯১টি। জব্দ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১টি স্পীট বোর্ড ও ১৮টি নৌকা ও প্রায় ৪টন কেজি ইলিশ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুরআন প্রতিযোগিতা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে: আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি 

মা ইলিশ রক্ষায়: ১৬দিনের অভিযানে আটক ১২৭ জেলে, ৩১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

আডেট সময় ০৭:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:.জাটকা সংরক্ষন ও মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরে ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা জেলেরা। কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে মা ইলিশ নিধন। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করছেন অনেকেই। তবে জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ১৬দিন পার হলেও এখনো সহায়তা পাননি। এছাড়া অন্য পেশা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন অনেকেই। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন,নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ,উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়: প্রতি বছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় হয়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মেঘনা নদীতে ছুটে আসে। এমন বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ৭ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাদপুরের ষাটনল পর্যস্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা। তবে নিষেধাজ্ঞা সময়ে দেয়া খাদ্য সহায়তা কোন কাজে আসছে না বলে জানান জেলেরা। অভিযোগ রয়েছে, নৌ-পুলিশদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে রাত-দিন নদীতে মাছ ধরছে জেলেরা। পরে গোপনে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসন দায় সারাভাবে অভিযান অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযান কোন কাজেই আসছেন না। ১৬দিনে ১৯৬টি অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৬৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৬০জনকে ১লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়মিত মামলা করা হয় ৯১টি। জব্দ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১টি স্পীট বোর্ড ও ১৮টি নৌকা ও প্রায় ৪টন কেজি ইলিশ। অভিযানে গিয়ে হামলার শিকারও হয়েছে কর্মকর্তারা। এতে করে সরকারের যে উদ্দেশ্যে এ নিষেধাজ্ঞা সেটা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা রয়েছে। এসময় প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেকেই পায়নি। পাশাপাশি যারা পেয়েছেন, সেখানেও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করেন জেলেরা। জেলায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১শ ৫০ জেলেকে ১শ ৫৩ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেয় সরকার। অথচ এখনো ১১ হ্জাার ৮শ ৫০ জেলে খাদ্য সহায়তার বাইরে রয়েছে। তাই সরকার যে উদ্দেশ্যে এ নিষেধাজ্ঞা সেটা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করছেন জেলেরা। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেরা যেন এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই প্রত্যাশা তাদের।

জেলেরা জানায়, অন্য পেশা না থাকায় বা কোন কাজকর্ম না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরছেন বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি সরকারের বরাদ্ধকৃত ভিজিএফের চাল প্রকৃত জেলেরা পাচ্ছেনা বলে অভিযান করেন তারা। আবার প্রকৃত জেলেদের না দিয়ে অপেশারদার ও দোকান এবং রিকসা চালকদের দেয়া হচ্ছে। আবার অনেকেই সরকারী আইন মেনে নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু তারা না গেলেও পাশের জেলার জেলে নদীতে নামছে।

মজুচৌধুরীরহাট নৌপুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুর রহমান বলেন, স্বল্ব জনবল নিয়ে প্রতিনিয়ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করেেছ নৌ-পুলিশ। জেলেদের সাথে আতাঁত, অনিয়ম বা ম্যানেজের বিষয়টির সাথে নৌ-পুলিশ জড়িত নয়। সব সময় নদীতে টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাটকা সংরক্ষন ও মা ইলিশ রক্ষায় ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষন, আহরন, পরিবহন, বাজারজাত করন ও মজুদকরন নিষিদ্ধ রয়েছে। এটি অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কোন ভাবে ছাড় দেয়া হবেনা। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩ অক্টোবর ১৬দিনে ১৯৬টি অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৬৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৬০জনকে ১লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়মিত মামলা করা হয় ৯১টি। জব্দ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১টি স্পীট বোর্ড ও ১৮টি নৌকা ও প্রায় ৪টন কেজি ইলিশ