ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত না করে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী জনগণের অধিকার নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে: এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কমলনগরে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় চলছে শোকের মাতম

২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা ইলিশের দেখা নেই, হতাশ জেলেরা

স্টাফ রিপোর্টার: ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছেনা কাঙ্গিত ইলিশ। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার পরিসংখ্যান থাকলেও জালে ইলিশ আসছেনা। এতে করে মাছঘাটগুলোতে অলস সময় পার করছেন জেলে ও আড়ৎদাররা। মাছ না পাওয়ায় হতাশ জেলেরা। মেঘনা নদীতে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারনে সাগর থেকে ইলিশ আসতে বাধার মুখে পড়ছে। এ কারনে মেঘনা মাছ ধরা পড়ছেনা। তবে মাস শেষে ইলিশ ধরা পড়ার আশা মৎস্য বিভাগের। আবার সামান্য ইলিশ ধরা পড়লেও তা আকাশ ছোয়া দাম।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের সবাই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষন ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে ইলিশ সহ সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে আবারো পুরোদমে মাছ ধরা শুরু হলেও কাঙ্গিত ইলিশ মিলছেনা। এসব এলাকার ছোট-বড় প্রায় ৩০টি মাছ ঘাটে আড়ৎদার ও জেলেরা মাছ না পাওয়ায় আলস সময় পার করছেন। মাছ না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। পাশাপাশি জ্বালানীর তীব্র সংকটেও অনেকেই নদীতে নামতে পারছেনা। ইলিশের এমন দুদির্নে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে জেলে পরিবার।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে,তা দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকার তেলের খরচও মিলছেনা। রোদ বৃষ্টিতে নদীতে খাটলেও মিলছেনা প্রত্যাশিত ইলিশ। আবার রয়েছে জ্বালানীর তীব্র সংকট। জ্বালানী সংকটের কারনেও অনেকেই নদীতে নামতে পারছেনা। এ পরিস্থিতিতে নদীতে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন মেঘনা পাড়ের জেলেরা। প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় মাছঘাটে সরগরম নেই। মিলছেনা জমজমাট ইলিশের হাট। বাজারে ইলিশের সরবরাহ নাই বললে চলে। কিন্তু সামান্য কিছু ইলিশ পেলেও তা দিয়ে হয়না। বর্তমানে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। জেলেদের ঝালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে। এর আগে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞার পরেও নদীতে গিয়ে খালি ফিরতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে যদি মাছ পাওয়া না যায়, তাহলে দাদনের টাকা কিভাবে শোধ করবো,সেটা নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছেন বেশিরভাগ জেলে।

মজুচৌধুরীরহাট মাছের আড়ৎদার মিন্টু বলেন, গত বছর এমন মৌসুমে ঝাঁক ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু এবার নদীতে ইলিশ খুব কম। মৌসুমের শুরুতে ইলিশ না পেয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। গত দুই বছর আগেও এসময়ে কয়েক টন মাছ আমদানি-রপ্তানি হত। কিন্তু এবার মাছ নাই। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও কোন লাভ হচ্ছে না। মাছ ধরে জেলেরা তাদের আড়ৎতে বিক্রি করবে এমন র্শতে দাদন নিয়েছেন। নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়ৎতে মাছ আসছে না। জেলেরা দেনাও শোধ করতে পারছে না। এবার দাদনের টাকা উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মজুচৌধুরীরহাটে ইলিশ ক্রয় করার সময় কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হয়। এদের মধ্যে সফিক উল্যাহ,রহমত উল্যা ও আবদুল খালেক জানান, ইলিশ কিনতে এসেছি। এসে দেখি ঘাটে কোন ইলিশ নেই। যা দুই একটি মাছ পাওয়া গেছে। সেগুলোর দামও অনেক বেশি। এক কেজি ওজনের তিনটি মাছ দেখা গেছে। দাম শুনে আর কিনতে পারেনি। দাম যাচ্ছে কেজি দুই হাজার টাকা। পরে মাছ না নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন জানান, নদীতে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটরে কারণে ইলিশ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। প্রচর বৃষ্টিপাত ও নদীতে পানি বাড়লে ইলিশ ধরা পড়বে। নদীর মোহনা থেকে এখন গভীর সমুদ্র চলে গেছে ইলিশ। মৌসুমের শুরুতে ধরা না পড়লেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা। তবে এবার ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন।

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী

২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা ইলিশের দেখা নেই, হতাশ জেলেরা

আডেট সময় ১০:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছেনা কাঙ্গিত ইলিশ। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার পরিসংখ্যান থাকলেও জালে ইলিশ আসছেনা। এতে করে মাছঘাটগুলোতে অলস সময় পার করছেন জেলে ও আড়ৎদাররা। মাছ না পাওয়ায় হতাশ জেলেরা। মেঘনা নদীতে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারনে সাগর থেকে ইলিশ আসতে বাধার মুখে পড়ছে। এ কারনে মেঘনা মাছ ধরা পড়ছেনা। তবে মাস শেষে ইলিশ ধরা পড়ার আশা মৎস্য বিভাগের। আবার সামান্য ইলিশ ধরা পড়লেও তা আকাশ ছোয়া দাম।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের সবাই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষন ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে ইলিশ সহ সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে আবারো পুরোদমে মাছ ধরা শুরু হলেও কাঙ্গিত ইলিশ মিলছেনা। এসব এলাকার ছোট-বড় প্রায় ৩০টি মাছ ঘাটে আড়ৎদার ও জেলেরা মাছ না পাওয়ায় আলস সময় পার করছেন। মাছ না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। পাশাপাশি জ্বালানীর তীব্র সংকটেও অনেকেই নদীতে নামতে পারছেনা। ইলিশের এমন দুদির্নে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে জেলে পরিবার।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে,তা দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকার তেলের খরচও মিলছেনা। রোদ বৃষ্টিতে নদীতে খাটলেও মিলছেনা প্রত্যাশিত ইলিশ। আবার রয়েছে জ্বালানীর তীব্র সংকট। জ্বালানী সংকটের কারনেও অনেকেই নদীতে নামতে পারছেনা। এ পরিস্থিতিতে নদীতে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন মেঘনা পাড়ের জেলেরা। প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় মাছঘাটে সরগরম নেই। মিলছেনা জমজমাট ইলিশের হাট। বাজারে ইলিশের সরবরাহ নাই বললে চলে। কিন্তু সামান্য কিছু ইলিশ পেলেও তা দিয়ে হয়না। বর্তমানে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। জেলেদের ঝালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে। এর আগে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞার পরেও নদীতে গিয়ে খালি ফিরতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে যদি মাছ পাওয়া না যায়, তাহলে দাদনের টাকা কিভাবে শোধ করবো,সেটা নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছেন বেশিরভাগ জেলে।

মজুচৌধুরীরহাট মাছের আড়ৎদার মিন্টু বলেন, গত বছর এমন মৌসুমে ঝাঁক ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু এবার নদীতে ইলিশ খুব কম। মৌসুমের শুরুতে ইলিশ না পেয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। গত দুই বছর আগেও এসময়ে কয়েক টন মাছ আমদানি-রপ্তানি হত। কিন্তু এবার মাছ নাই। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও কোন লাভ হচ্ছে না। মাছ ধরে জেলেরা তাদের আড়ৎতে বিক্রি করবে এমন র্শতে দাদন নিয়েছেন। নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়ৎতে মাছ আসছে না। জেলেরা দেনাও শোধ করতে পারছে না। এবার দাদনের টাকা উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মজুচৌধুরীরহাটে ইলিশ ক্রয় করার সময় কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হয়। এদের মধ্যে সফিক উল্যাহ,রহমত উল্যা ও আবদুল খালেক জানান, ইলিশ কিনতে এসেছি। এসে দেখি ঘাটে কোন ইলিশ নেই। যা দুই একটি মাছ পাওয়া গেছে। সেগুলোর দামও অনেক বেশি। এক কেজি ওজনের তিনটি মাছ দেখা গেছে। দাম শুনে আর কিনতে পারেনি। দাম যাচ্ছে কেজি দুই হাজার টাকা। পরে মাছ না নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন জানান, নদীতে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটরে কারণে ইলিশ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। প্রচর বৃষ্টিপাত ও নদীতে পানি বাড়লে ইলিশ ধরা পড়বে। নদীর মোহনা থেকে এখন গভীর সমুদ্র চলে গেছে ইলিশ। মৌসুমের শুরুতে ধরা না পড়লেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা। তবে এবার ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন।