স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের মামলায় দুধের শিশুকে নিয়ে কারাবন্দি ফারহানা আক্তার শিল্পি নামে সেই নারীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সদরের বিচারক শাহ জামাল মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পেশকার দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আসামির কোলে দুধের শিশু ও বাড়িতে আরও দুই শিশু শিক্ষার্থী থাকায় আদালতের বিচারক মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দিয়েছেন।
আদালত ও আইনজীবী সূত্র জানায়, একটি মারধরের মামলায় (সিআর ৫৬৫) শিল্পি সোমবার (১১ মে) আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে শিল্পিকে তার দুধের শিশু সিয়ামকে নিয়ে কারাগারে যেতে হয়। প্রিজনভ্যানে ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে বসে থাকা ও তার অপর দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তান গিয়ে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে আসামির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন তার ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে পড়লে এ নিয়ে তথ্যবহুল সংবাদ প্রচার হয়। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাত দিন পর জামিন চাওয়ার নিয়ম থাকলেও শিশুসহ মা কারাগারে এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় বুধবার শিল্পিকে জামিন দেয় আদালত।
শিল্পির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বলেন, ঘটনার ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, শিল্পিকে মারধর করা হয়। কিন্তু শিল্পির হাতে কোনো রড ছিল না। সে কাউকে আঘাতও করেনি। এ ছাড়া, মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতটি সাধারণ ছিল বলে উল্লেখ করেছে চিকিৎসক। এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও শিল্পিকে কারাগারে পাঠান আদালত। অবশেষে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
শিল্পির ভাই মো. আবু ইউছুফ বলেন, শিল্পি জামিন পেয়েছেন। দুই দিন ধরে তার দুই ছেলে-মেয়ে বাড়িতে কান্নাকাটি করেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা কারগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, শিল্পি নামে এক আসামির জামিন হয়েছে। ১১ মে তিনি আড়াই বছরের শিশু সিয়ামকে নিয়ে কারাগারে আসেন।
এজাহার সূত্র জানায়, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মৃত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে ১৫ এপ্রিল তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়। শিল্পি পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। মামলায় উল্লেখ করা হয় শিল্পি রড দিয়ে বাদীর মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে বাদীর মাথার হাড় ভেঙে মোগজ বের হয়ে যায়। এজাহারে গুরুতর আঘাত উল্লেখ করা হলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে (এমসি) আঘাতের ধরণ সিম্পল (সাধারণ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেঘনার তীর 





















