ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রামগতিতে খাসি না দেওয়ায় গৃহবধূর মুখ ঝলসে দিল

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 26

স্টাফ রিপোর্টার:লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কুরবানির জন্য খাসি ছাগল না দেওয়ায় এক গৃহবধূর মুখমণ্ডলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৮ মে) রাতে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সুমি আক্তার পাশ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ চিডুর মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন Eid al-Adha উপলক্ষে স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সুমির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক ও কুরবানির জন্য একটি বড় খাসি ছাগল দাবি করে আসছিলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি পূরণ সম্ভব না হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তার মুখমণ্ডলে আগুন দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমির মা আমেনা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। ঈদ এলেই যৌতুক ও বিভিন্ন দাবিতে চাপ দেওয়া হতো। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Liton Dewan বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

রামগতিতে খাসি না দেওয়ায় গৃহবধূর মুখ ঝলসে দিল

আডেট সময় ১১:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কুরবানির জন্য খাসি ছাগল না দেওয়ায় এক গৃহবধূর মুখমণ্ডলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৮ মে) রাতে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সুমি আক্তার পাশ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ চিডুর মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন Eid al-Adha উপলক্ষে স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সুমির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক ও কুরবানির জন্য একটি বড় খাসি ছাগল দাবি করে আসছিলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই দাবি পূরণ সম্ভব না হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তার মুখমণ্ডলে আগুন দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমির মা আমেনা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। ঈদ এলেই যৌতুক ও বিভিন্ন দাবিতে চাপ দেওয়া হতো। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রহিম, শ্বশুর মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Liton Dewan বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।