তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের মেঘনার সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়। মেঘনার চরাঞ্চল উপজেলার উত্তর চরবংশী বেরিবাঁধ এলাকার জনপদ এখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরগরম।
২৯ মে অর্ধ শতাদিক বর্জিটিনা–সমর্থকের পতাকা নিয়ে বেরিবাঁধ সড়কে (উত্তর চরবংশী) শোভাযাত্রা করায় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। এর পাল্টা হিসেবে কয়েকদিনেই বড় ধরনের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা।
বেরিবাঁধ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার মেঘনার চরাঞ্চল এলাকা (চারটি ইউনিয়ন) মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগাল—এই চার দলের সমর্থক বেশি। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে হাটবাজার, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতেও চলছে প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ‘আর্জেটিনা সমর্থক গোষ্ঠী’ ব্যানারে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি বেরিবাঁধ সড়ক ঘুরে চমকাবাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সড়কের উপরের সুপারি গাছে লাগানো ৯০ ফুটের বিশাল পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে ভুড়িভোঁজসহ আরও বড় আয়োজনের ঘোষণা দেন তাঁরা।
আর্জেটিনার সমর্থক লিটন হোসেন বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই আমরা উজ্জীবিত হই। আর্জেটিনা নান্দনিক ফুটবলের দল। আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমরা একত্র হয়েছি।’
শোভাযাত্রার সমন্বয়ক মোঃ মিজান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা একত্র হয়েছেন। তাঁর দাবি, মেঘনা উপকুলীয় চরাঞ্চলে (খাসেরহাট বাজার) আর্জেন্টিনার সমর্থকের সংখ্যাই বেশি।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের শোভাযাত্রার পর পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চলছে খোঁচাখুঁচি ও তর্ক-বিতর্ক।
রায়পুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শফিকুল আলম আলমাস বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করবেন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকেরা। পাশাপাশি কনসার্ট এবং বড় পর্দায় ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রায়পুরে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনার সমর্থক, ৩০ শতাংশ ব্রাজিলের এবং বাকিরা জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেনের সমর্থক।
বিশ্বকাপ ঘিরে স্থানীয় বাজারগুলোতেও বেড়েছে জার্সি ও পতাকার বিক্রি। রায়পুর বনিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মরাদ বলেন, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরো রায়পুর বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কের পাশে উড়ছে বিভিন্ন দলের পতাকা। সমর্থকদের গায়েও দেখা যাচ্ছে প্রিয় দলের জার্সি।
রায়পুর গাজিকমপ্লেক্সের কাপড় ও টেইলাস ব্যবসায়ী মোঃ সবুজ বলেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জার্মানি, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের জার্সিও খুঁজছেন ক্রেতারা। অনেকে বড় বড় পতাকা তৈরি করতেও দরজিদের কাছে ভিড় করছেন।
বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে । রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৮টি আশ্রয়- কেন্দ্রে থাকা বিপুলসংখ্যক কিশোর যুবকদের মধ্যেও ফুটবল নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।
হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা শিক্ষক চাঁনমিয়া বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্বকাপ ঘিরে আশ্রায়নকেন্দ্রে ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাঁশ ও ত্রিপলের ঘরের ওপর উড়ছে প্রিয় দলের পতাকা। আশ্রায়ন ও আবাসনকেন্দ্রের বাসিন্দারাও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—দুই শিবিরে বিভক্ত। বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগের ব্যাবস্থাও করা হবে। তাই অনেকেই মুঠোফোন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সোলার প্যানেল ও ছোট ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
উল্লেখ্য– ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
মেঘনার তীর 




















