স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের আলোচিত মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ৩টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামিকে সাজামূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার গাংগাটিয়া গ্রামে। তিনি বাকলিয়া থানার মিয়াখাননগর এলাকায় থাকতেন।
চলতি বছরের ২১ মে নগরের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০ জনের বেশি আহত হন।
পরদিন ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে ৪ জুন আদালতে একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ। আদালত ৮ জুন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ১০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ১৪ জুন শেষ হয়। বাদী, তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ উল আলম চৌধুরী মারুফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আদালত আসামি মনির হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল-আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘সারা দেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এসব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে অন্যরা এই ধরনের অপরাধে জড়ানো থেকে বিরত থাকবে।’
মেঘনার তীর 


















