ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রায়পুরে এক গ্রামেই ১৫টি বাঁশের সাঁকো, তিনটি সেতুর জন্য গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • 259

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুচিয়ামোড়া, ফিশারীঘাট ও নতুনব্রীজ এলাকাটি কৃষি ও জেলেপল্লী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। গ্রাম জুড়ে রয়েছে প্রায় ২০টি সাঁকো। যা দিয়েই নিত্যদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। বিদ্যালয়গামী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ- সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।

উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত চরবংশী বেরিবাঁধ গ্রাম। উপজেলা থেকে দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রায় ২০০০ পরিবারের বসবাস এই গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জেলে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।।

গ্রামটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুদীর্ঘ ডাকাতিয়া নদী ও সংযোগ খাল নামে পরিচিত। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এই খালই গ্রামটিকে আশপাশের অন্যান্য গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। নদী ও খালের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন অসংখ্য বাঁশের সাঁকো। অধিকাংশ পরিবারেরই রয়েছে ব্যক্তিগত নৌকা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, চরবংশী খাসেরহাট বাজার বেরিবাঁধ থেকে খালের অন্য পাশে যাতায়াতের জন্য যেকোনো একটি স্থানে ৩টি সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতো। কৃষিপণ্য মাঠ থেকে তুলে মূল সড়কে আনতে গিয়ে কৃষকের সীমাহীনকষ্ট করতে হয়।

চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজছাত্র আক্তার হোসেন ও মোঃ মালেক বলেন, ‘ নতুনব্রীজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে আমাদের প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

এ বিষয়ে উত্তর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও চমকাবাজার গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করা ৩০-৩৫টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে, কিন্তু ২-১টি ছাড়া বাকিগুলোতে পাকা ব্রিজ নেই। কুচিয়ামোড়া, নতুনব্রীজ, ফিশারীঘাট, চরঘাসিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া ও চান্দারখাল এলাকা স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। সাঁকো দিয়ে পরিবারের জন্য মালামাল আনা-নেওয়াও খুব কষ্টকর।’

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক (সহকারি কমিশনার ভুমি) নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ গ্রামে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ হলে কৃষক ও জেলেদের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। এজন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলি সুমন মুন্সি বলেন, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারের আশেপাশে বেরিবাঁধ এলাকার কয়েকটি ব্রীজ নির্মানের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাজেটে পাশ হলেই কাজ করা যাবে।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনের চারবারের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় উন্নয়ন করে থাকে। মেঘনা উপকুলীয় এলাকায় কমপক্ষে কয়েকটি ব্রীজ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করবো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রায়পুরে এক গ্রামেই ১৫টি বাঁশের সাঁকো, তিনটি সেতুর জন্য গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ

আডেট সময় ১১:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুচিয়ামোড়া, ফিশারীঘাট ও নতুনব্রীজ এলাকাটি কৃষি ও জেলেপল্লী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। গ্রাম জুড়ে রয়েছে প্রায় ২০টি সাঁকো। যা দিয়েই নিত্যদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। বিদ্যালয়গামী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ- সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।

উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত চরবংশী বেরিবাঁধ গ্রাম। উপজেলা থেকে দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রায় ২০০০ পরিবারের বসবাস এই গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জেলে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।।

গ্রামটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুদীর্ঘ ডাকাতিয়া নদী ও সংযোগ খাল নামে পরিচিত। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এই খালই গ্রামটিকে আশপাশের অন্যান্য গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। নদী ও খালের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন অসংখ্য বাঁশের সাঁকো। অধিকাংশ পরিবারেরই রয়েছে ব্যক্তিগত নৌকা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, চরবংশী খাসেরহাট বাজার বেরিবাঁধ থেকে খালের অন্য পাশে যাতায়াতের জন্য যেকোনো একটি স্থানে ৩টি সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতো। কৃষিপণ্য মাঠ থেকে তুলে মূল সড়কে আনতে গিয়ে কৃষকের সীমাহীনকষ্ট করতে হয়।

চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজছাত্র আক্তার হোসেন ও মোঃ মালেক বলেন, ‘ নতুনব্রীজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে আমাদের প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।’

এ বিষয়ে উত্তর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও চমকাবাজার গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করা ৩০-৩৫টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে, কিন্তু ২-১টি ছাড়া বাকিগুলোতে পাকা ব্রিজ নেই। কুচিয়ামোড়া, নতুনব্রীজ, ফিশারীঘাট, চরঘাসিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া ও চান্দারখাল এলাকা স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। সাঁকো দিয়ে পরিবারের জন্য মালামাল আনা-নেওয়াও খুব কষ্টকর।’

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক (সহকারি কমিশনার ভুমি) নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ গ্রামে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ হলে কৃষক ও জেলেদের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। এজন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলি সুমন মুন্সি বলেন, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারের আশেপাশে বেরিবাঁধ এলাকার কয়েকটি ব্রীজ নির্মানের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাজেটে পাশ হলেই কাজ করা যাবে।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনের চারবারের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় উন্নয়ন করে থাকে। মেঘনা উপকুলীয় এলাকায় কমপক্ষে কয়েকটি ব্রীজ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করবো।