ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রায়পুরে অটোরিকসা চালককে তুলে নিয়ে বেধড়ক নির্যাতন,দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী লক্ষ্মীপুরে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ,নিহত ১.আহত-৬ রামগতি প্রেসক্লাব নির্বাচন, নিজাম সভাপতি, শাহরিয়ার সম্পাদক আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন মোড়: এআই দাবি থেকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ স্বীকারোক্তি এমপির

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৩:৫৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • 52

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাঁদের কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠ অবস্থানও দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ একাধিক পোস্টে দাবি করে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি ভুয়া প্রচারণা।
তবে পরদিন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।
মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ভিডিও বার্তায় বলেন,‘‘ গাজী নজরুল সবার সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ‘’
এমনকি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের এক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামকে স্বামী বলে দাবি করেছেন। এছাড়া মরিয়মের পিতা শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের মাসুম বিল্লাহও একই ভিডিও বার্তায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে,আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। গত ১৭ জুন রোজ মঙ্গলবার আমার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। সেখানে তার বড় স্ত্রীসহ আমরা সকলে উপসিথত ছিলাম।
এদিকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তথ্য যাচাই-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটির উৎস, ধারণস্থল এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল বলে দেখা যায়। যদিও ফুটেজের সময় ও স্থান সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের হাতে আসা বায়োডাটার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ১৮ বছর ২ মাস। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরে অটোরিকসা চালককে তুলে নিয়ে বেধড়ক নির্যাতন,দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন মোড়: এআই দাবি থেকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ স্বীকারোক্তি এমপির

আডেট সময় ০৩:৫৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাঁদের কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠ অবস্থানও দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ একাধিক পোস্টে দাবি করে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি ভুয়া প্রচারণা।
তবে পরদিন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।
মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ভিডিও বার্তায় বলেন,‘‘ গাজী নজরুল সবার সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ‘’
এমনকি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের এক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামকে স্বামী বলে দাবি করেছেন। এছাড়া মরিয়মের পিতা শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের মাসুম বিল্লাহও একই ভিডিও বার্তায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে,আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। গত ১৭ জুন রোজ মঙ্গলবার আমার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। সেখানে তার বড় স্ত্রীসহ আমরা সকলে উপসিথত ছিলাম।
এদিকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তথ্য যাচাই-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটির উৎস, ধারণস্থল এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল বলে দেখা যায়। যদিও ফুটেজের সময় ও স্থান সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের হাতে আসা বায়োডাটার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ১৮ বছর ২ মাস। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।