ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রায়পুরে অটোরিকসা চালককে তুলে নিয়ে বেধড়ক নির্যাতন,দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী লক্ষ্মীপুরে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ,নিহত ১.আহত-৬ রামগতি প্রেসক্লাব নির্বাচন, নিজাম সভাপতি, শাহরিয়ার সম্পাদক আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ সড়ক: এ যেন এক ঢেউ খেলানো নদী

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৭:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • 37
মাহমুদ ফারুক: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস ব্রীজ থেকে শিশু পার্ক পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার অংশটি বর্তমানে লাখো মানুষের মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে বিশাল বিশাল গর্ত ও খানাখন্দে সয়লাভ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এবং বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ চালু হওয়ার কারনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারনে সংস্কার কাজটি বর্তমানে লেজেগোবরে অবস্থা।
এই সড়ক দিয়েই রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল কলেজে যেতে হয়।
সরেজমিনে আজ বুধবার দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি পেড়েছে চরম আকারে।
সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ, রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া এ সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
রামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র বাহার হোসেন বাবু জানায় স্কুলজীবন থেকে এই সড়কের বেহাল দশা দেখে আসছি। দীর্ঘদিন সংষ্কার না হওয়ায় ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
রামগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন জানান, এটি রামগঞ্জের প্রধান বানিজ্যিক সড়ক হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও ক্রেতারা আসতেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে ক্রেতারা এখন বাজারে আসতে চান না, যার ফলে এ উপজেলার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন সড়কটির কারনে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দিচ্ছি কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য। এ সড়ক সংষ্কারে ধীরগতি হওয়ার কারনে সাধারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে কটু কথা বলছে।
উক্ত সড়কের তদারকি কর্মকর্তা ও সড়ক ও জনপথের এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্ক) মোঃ সাবের হোসেন জানান ৮কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার সংস্কার কাজ আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ততম হওয়ায় আমাদের অনেক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। উক্ত সড়কের একটি অংশ ৯১২ মিটার (বাজার অংশের প্রায় এক কিলোমিটার) কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ত হওয়ার কারনে কাজ করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি শ্লো হওয়ার অন্যতম কারন। তবে আশা করছি আগামী ১২/১৫ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হবে।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরে অটোরিকসা চালককে তুলে নিয়ে বেধড়ক নির্যাতন,দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী

রামগঞ্জ হাজীগঞ্জ সড়ক: এ যেন এক ঢেউ খেলানো নদী

আডেট সময় ০৭:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
মাহমুদ ফারুক: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস ব্রীজ থেকে শিশু পার্ক পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার অংশটি বর্তমানে লাখো মানুষের মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে বিশাল বিশাল গর্ত ও খানাখন্দে সয়লাভ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এবং বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ চালু হওয়ার কারনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারনে সংস্কার কাজটি বর্তমানে লেজেগোবরে অবস্থা।
এই সড়ক দিয়েই রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল কলেজে যেতে হয়।
সরেজমিনে আজ বুধবার দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি পেড়েছে চরম আকারে।
সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ, রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া এ সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
রামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র বাহার হোসেন বাবু জানায় স্কুলজীবন থেকে এই সড়কের বেহাল দশা দেখে আসছি। দীর্ঘদিন সংষ্কার না হওয়ায় ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
রামগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন জানান, এটি রামগঞ্জের প্রধান বানিজ্যিক সড়ক হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও ক্রেতারা আসতেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে ক্রেতারা এখন বাজারে আসতে চান না, যার ফলে এ উপজেলার বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন সড়কটির কারনে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দিচ্ছি কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য। এ সড়ক সংষ্কারে ধীরগতি হওয়ার কারনে সাধারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে কটু কথা বলছে।
উক্ত সড়কের তদারকি কর্মকর্তা ও সড়ক ও জনপথের এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্ক) মোঃ সাবের হোসেন জানান ৮কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার সংস্কার কাজ আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ততম হওয়ায় আমাদের অনেক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। উক্ত সড়কের একটি অংশ ৯১২ মিটার (বাজার অংশের প্রায় এক কিলোমিটার) কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ত হওয়ার কারনে কাজ করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি শ্লো হওয়ার অন্যতম কারন। তবে আশা করছি আগামী ১২/১৫ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হবে।