তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় ৫টি সড়কে চলছে কয়েকজন ঠিকাদারের খোঁড়াখুঁড়ি। ৪টি সড়কের ২০ শতাংশ কাজ গত দেড় বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। খোঁড়া এসব সড়কে এমনিতেই গত তিন বছর ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন পৌরবাসী। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চলাচলের অনুপযোগী এসব সড়কে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। খুঁড়ে তোলা পিচ, মাটি আর পানি মিলেমিশে কাদা হয়ে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বেহাল সড়কগুলো ধীরগতিতে নিয়ে আইনশৃংখলা কমিটির সভায় উত্তাপন করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে রায়পুর পৌরসভার টিএনটি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুনবাজার সড়ক (বীর মুক্তিযোদ্ধা নবী নেওয়াজ করিম সড়ক) খাজুরতলা সড়কসহ ৫টি সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি– সংস্কারকাজ চলছে। মধুপুরে দুইটিসহ আরও ৫টি সড়কের কাজ এক বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরে রায়পুরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। খুঁড়ে তোলা মাটির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিলেমিশে কাদায় পরিণত হয়েছে। একদিকে সড়কে বড় বড় গর্ত, তার মধ্যে পিচ্ছিল কাদা। ফলে সড়কে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ছোট ছোট যানসহ পথচারীরা।
পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর, দেনায়েতপুরসহ নতুনবাজার, খাজুরতলা ও মহিলা কলেজ এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। আগে থেকেই বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। লোকজন হেঁটে চলত। তিন-চার দিনের বৃষ্টিতে হেঁটে চলা আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সোমবার (৪ মে) বৃষ্টির মধ্যে টিএনটি সড়কে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। পুকুরের গাইড ওয়াল দেওয়া হয়েছে খুবই নিন্মমানের। যা কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙ্গে যেতে পারে বলে সচেতন গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন। বৃষ্টির কারণে খোঁড়াখুঁড়িতে অন্য সড়কগুলোর কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে।
পৌরসভার নতুনবাজার ও খাজুরতলা সড়ক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও চলছে পয়োনিষ্কাশনের সংযোগ প্রশস্ত করা, আবার চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে সড়ক খুঁড়ছে পৌরসভার তিনজন ঠিকাদার জুয়েল, আরমান ও শিপন। নতুনবাজার- মহিলা কলেজ সড়ক ও ড্রেনের কাজ শেষ না হতেই গত ২৫ দিন ধরে নতুন করে হায়দরগন্জ সড়কের নর্দমা পর্যন্ত পৌরসভা অংশের কাজ খুঁড়ছে পৌরসভা। পৃথক দুটি সড়ক কয়েক দিনের ব্যবধানে খোঁড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম খলিল ও বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রতি বছর বর্ষা আসার আগ মুহূর্তে শুরু হয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। বৃষ্টিতে চলাচলে অসুবিধা হবে জানা কথা, তাহলে আগে থেকে কাজ শুরু করে না কেন। এবারও খোঁড়া হয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টি হলে একদমই চলা যাবে না। গত দেড় বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চালাচ্ছে পৌরসভা। সড়কগুলোয় ড্রেন নির্মাণ কাজ করছে। খোঁড়া গর্ত ঠিকভাবে ভরাট না করায় এবং গর্তের বালি সরে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিরপানি মিশে পুরোএলাকা ও সড়ক কাদায়ডুবে আছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে আইনশৃংখলা সভায় ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় এ বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।—যার ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে উন্নয়নকাজ। যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে, সেসব এলাকায় পানিপ্রবাহের নালা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি সড়কে জমে না থাকে।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, কাজ শুরুর ক্ষেত্রে বরাদ্দ পাওয়া, টেন্ডারিংয়ের মতো অনেক ব্যাপার থাকায় আরও আগে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়নি। সবকিছু মিলিয়ে সঠিক সময়েই কাজ শুরু করা গেছে। খুব তাড়াতাড়ি সব সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মেঘনার তীর 



















