তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: সুপীয় পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যাবস্থা থেকে দীর্ঘবছর ধরে বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনার দুর্গম চরবাসীরা। হাজার হাজার একর জমিতে জেগে ওঠা চরগুলোও সয়াবিন ও ধানসহ নানান ফসলে ভরে ওঠে প্রতিবছর। কিন্ত সেখানে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেটও থাকলেও নেই বিশুদ্ধ পানি, হাসপাতাল ও যোগাযোগ ব্যাবস্থা (রাস্তা ও ব্রীজ)। এতে করে কর্মব্যস্ত চরের লক্ষাধিক পরিবারের দুর্ভোগ চরমে। মৌলিক অধিকার পেতে প্রশাসনের কাছে দারস্ত হচ্ছে বরাবর আবেদন করেও লাভ হচ্ছেনা অভিযোগ করা।
সম্প্রতি মেঘনার চরে গিয়ে সুপীয় পানি ও যোগাযোগ ব্যাবস্থাসহ কয়েকটি ব্রীজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছারের নেতৃত্বে সহকারি কমিশনার (ভুমি) নিগার সুলতানা, এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খানসহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিগন।
এসময় চরবাসি সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতি নিধিদের কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়েছেন।
চরের বাসিন্দা আবদুল বাতেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, রায়পুরের বিশাল মেঘনার চরটি ঘিরে ভুমিদস্যু ও জলদস্যুরা সক্রিয় থাকে। কিন্তু গত ৫৪ বছরের মধ্যে শুধু বিদ্যুত ব্যাবস্থা থাকলেও সুপীয় পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যাবস্থা থেকে দীর্ঘবছর ধরে বঞ্চিত চরবাসী। সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্ন ভোটের সময় আসলে কিছু সমসজ সেবক নামধারী ভুমিদস্যুদের নিয়ে এসে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। ভোট শেষে আর কখনই আসেনা।
আমরা শুধু চরের জমি দখল ও যোগাযোগ ব্যাবস্থাসহ কিছু কষ্টের কথা বলেছি। ইউএনও স্যার আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন।
স্থানীয় মালেক মিয়ে বলেন, বর্ষাকাল আসলে সন্তানরা স্কুলে যেতে পারিনা, একটা হাসপাতাল নেই, অসুস্থ হলে বিপাকে পড়তে হয়। শিশুকাল অবস্থাই মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হই। চিকিৎসার অভাবে নিরীহ মানুষগুলো মারা যায়। যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই খারাফ। নৌকা আমাদের জীবনের নতুন ভরসা। বহুদিন ধরে একটা ব্রীজ নির্মাণের দাবি করে আসছিলাম। ইউএনও স্যার সুপীয় পানি ও ব্রীজের আশ্বাস দিয়েছেন। এটা আমাদের জীবনে বড় প্রাপ্তি।
চরের নারীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আগে বর্ষার সময় সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বা বাজারে যাওয়া ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ। এখন অন্তত কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
রায়পুরে মেঘনার কাছিয়ার চরবাসীরা মনে করছেন, একটি ব্রীজ শুধু চলাচলের কষ্টই কমাবে না, বরং শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগের পথও সহজ করবে। চরবাসীর ভাষায় এটা যেন হবে অন্ধকারে আলোর প্রদীপ।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, মেঘনার দূর্গম উপকূলীয় টুনুর চরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনেছি। কৃষিজীবী ও মৎসজীবী কয়েক হাজার মানুষের জন্য যাতায়াতের রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুপেয় পানি, সুচিকিৎসা ও স্বাস্হ্যসম্মত টয়লেট ব্যবস্হা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। বিশাল জনগোষ্ঠীর এ এলাকার জনগণের জন্য দশটি গভীর নলকূপ স্হাপন ও দুইটি পাবলিক টয়লেট স্হাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চিকিৎসা সংকট কাটাতে প্রতি মাসে দুইবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক প্রেরণের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্হাপনের ব্যবস্হা নেয়া হচ্ছে। খুব দ্রুতই চরবাসীসহ দরিদ্র মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্হা নেয়া হবে।
মেঘনার তীর 





















