ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:০৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • 112

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এবং বাজারের দাম কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারি ধান কেনার জন্য কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ৮০০ টাকায় বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

সার, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ধানের বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে রোপা বুরো ধান কাটার শুরুতে ধানের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায় ছিল। কিন্তু এলাকার ধান ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ধানের দাম মণ প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হারে কমছে। এতে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং তাদের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় মোল্লারহাট বাজার, হায়দরগন্জ, হাজিমারাসহ কয়েকটি হাটবাজারে কৃষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে-৯০০ টাকায়, যা ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।

রায়পুর উপজেলার কৃষক সিরাজ ঢালি বলেন, ‘আমার জমিতে এবার বুরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের সবারই ভালো ফলন হয়েছে। তারপরেও খরচের কারণে কারও খুশি নেই। কারণ খরচের তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি, বরং দিন দিন কমছে।’ মুখ দেখে দেখে মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।।

তিনি আরও বলেন, ‘আবাদের ব্যয় ছাড়া, প্রতি বিঘায় ধান কাটতে খরচ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ছিল আশানুরূপ। দিন যাচ্ছে আর অসাধু ধান ব্যবসায়ী আড়ৎদারদের কারণে কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

আরেক কৃষক সোবহান ঢালি বলেন, ‘আমি এবার ৩ বিঘা জমিতে বুরো ধান চাষ করেছি। সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতে বেশি। উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমরা যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে কোথায় যাব ! আমরা কৃষকরা কী করব!’

কৃষক হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ধান কাটাও পুরো শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে-এ ভাবনায় দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।’ কিছু ব্যাবসায়ী ৮০০ টাকা করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছেন, তা আমরা জানতে পেরেছি।

রায়পুরের হায়দরগন্জ ও মোল্লারহাট বাজারের ধান ব্যবসায়ী একরামুল কাজি ও মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমের ধান-চাল এখনো মজুত থেকে গেছে। মিলাররাও এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি। এ জন্য ধানের বাজার নিম্নমুখী।’

রায়পুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো উপজেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে, মাড়াই বাকি। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ‘চলতি রোপা বুরো মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা

আডেট সময় ০৬:০৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এবং বাজারের দাম কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারি ধান কেনার জন্য কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ৮০০ টাকায় বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

সার, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ধানের বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে রোপা বুরো ধান কাটার শুরুতে ধানের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায় ছিল। কিন্তু এলাকার ধান ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ধানের দাম মণ প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হারে কমছে। এতে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং তাদের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় মোল্লারহাট বাজার, হায়দরগন্জ, হাজিমারাসহ কয়েকটি হাটবাজারে কৃষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে-৯০০ টাকায়, যা ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।

রায়পুর উপজেলার কৃষক সিরাজ ঢালি বলেন, ‘আমার জমিতে এবার বুরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের সবারই ভালো ফলন হয়েছে। তারপরেও খরচের কারণে কারও খুশি নেই। কারণ খরচের তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি, বরং দিন দিন কমছে।’ মুখ দেখে দেখে মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।।

তিনি আরও বলেন, ‘আবাদের ব্যয় ছাড়া, প্রতি বিঘায় ধান কাটতে খরচ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ছিল আশানুরূপ। দিন যাচ্ছে আর অসাধু ধান ব্যবসায়ী আড়ৎদারদের কারণে কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

আরেক কৃষক সোবহান ঢালি বলেন, ‘আমি এবার ৩ বিঘা জমিতে বুরো ধান চাষ করেছি। সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতে বেশি। উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমরা যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে কোথায় যাব ! আমরা কৃষকরা কী করব!’

কৃষক হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ধান কাটাও পুরো শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে-এ ভাবনায় দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।’ কিছু ব্যাবসায়ী ৮০০ টাকা করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছেন, তা আমরা জানতে পেরেছি।

রায়পুরের হায়দরগন্জ ও মোল্লারহাট বাজারের ধান ব্যবসায়ী একরামুল কাজি ও মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমের ধান-চাল এখনো মজুত থেকে গেছে। মিলাররাও এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি। এ জন্য ধানের বাজার নিম্নমুখী।’

রায়পুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো উপজেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে, মাড়াই বাকি। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ‘চলতি রোপা বুরো মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’