স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসব মামলা করা হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগতি ও কমলনগর এলাকায় গত কয়েক মাসে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি রামগতিতে ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি কমলনগরে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০ এপ্রিল আরও একটি মামলা হয়। এই মামলাগুলোর পর কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের দলের ভেতরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালিয়ে এমপি নিজান ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, এখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম করার প্রবণতা কমে গেছে। বাজার, ঘাট ও সরকারি প্রকল্প ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এখন অনেকেই সতর্ক। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আর অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
এদিকে কমলনগর ও রামগতি উপজেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এমপি নিজান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) স্থানীয় নেতারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ নীতি অব্যাহত থাকবে।
মেঘনার তীর 



















