ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী

রামগতিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর সহযোগিতায় খাল পুন:খননের মাটি ইটভাটায় ! কৃষকদের বিক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 102

তাবারক হোসেন আজাদ:নিয়ম ছিল সেচ খালের মাটি থাকবে খালের দুই পাড়েই, যা রক্ষা করবে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি। কিন্তু সরকারি সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মূল্যে খালের মাটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

রামগতির জারিরদোনা খাল খনন প্রকল্পের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে- ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছে।বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মালেক হোসেন, জবর মাঝি, খালেক সৈয়ালসহ স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রামগতির চর আলগি ইউনিয়নে জারিরদোনা খালের প্রায় চার কিলোমিটার পুনর্খননে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী, খাল থেকে তোলা মাটি দুই পাড়ের সুফলভোগীদের জমি ভরাট এবং স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়। তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের মাটি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে নামমাত্র ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন, যা যাবে একটি অবৈধ ইটভাটায়।

কৃষকদের দাবি, সরকারি কোষাগারে সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে তারা নিজেরা মাটি রাখতে চাইলেও, সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি তাদের। মাটি সরিয়ে নিলে আসন্ন বর্ষায় জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে তাদের চাষাবাদের জমি ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষকরা অভিযোগ করে জানান,আমাদের ফসলি জমির ওপর দিয়েই এই খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাড়েই রাখার কথা। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মাটি না থাকলে বর্ষায় আমাদের জমি সব খালে চলে যাবে। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে মাটি রাখতে চাইলেও আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিলামে মাটি ক্রেতা -আজাদ উদ্দিন ডলার বলেন,আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি এই মাটি কিনে নিয়েছি। কোনো ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে কিনা তা কিছু জানিনা।

এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই খালের মাটি ইটভাটায় নিতে দেবেন না বলে জানান এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেখানে কৃষকদের ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেখানে একশ্রেণির কর্মকর্তার অবহেলা আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার এই চেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা পাবে নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন

রামগতিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর সহযোগিতায় খাল পুন:খননের মাটি ইটভাটায় ! কৃষকদের বিক্ষোভ

আডেট সময় ১১:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:নিয়ম ছিল সেচ খালের মাটি থাকবে খালের দুই পাড়েই, যা রক্ষা করবে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি। কিন্তু সরকারি সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মূল্যে খালের মাটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

রামগতির জারিরদোনা খাল খনন প্রকল্পের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে- ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছে।বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মালেক হোসেন, জবর মাঝি, খালেক সৈয়ালসহ স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রামগতির চর আলগি ইউনিয়নে জারিরদোনা খালের প্রায় চার কিলোমিটার পুনর্খননে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী, খাল থেকে তোলা মাটি দুই পাড়ের সুফলভোগীদের জমি ভরাট এবং স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়। তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের মাটি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে নামমাত্র ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন, যা যাবে একটি অবৈধ ইটভাটায়।

কৃষকদের দাবি, সরকারি কোষাগারে সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে তারা নিজেরা মাটি রাখতে চাইলেও, সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি তাদের। মাটি সরিয়ে নিলে আসন্ন বর্ষায় জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে তাদের চাষাবাদের জমি ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষকরা অভিযোগ করে জানান,আমাদের ফসলি জমির ওপর দিয়েই এই খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাড়েই রাখার কথা। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মাটি না থাকলে বর্ষায় আমাদের জমি সব খালে চলে যাবে। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে মাটি রাখতে চাইলেও আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিলামে মাটি ক্রেতা -আজাদ উদ্দিন ডলার বলেন,আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি এই মাটি কিনে নিয়েছি। কোনো ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে কিনা তা কিছু জানিনা।

এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই খালের মাটি ইটভাটায় নিতে দেবেন না বলে জানান এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেখানে কৃষকদের ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেখানে একশ্রেণির কর্মকর্তার অবহেলা আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার এই চেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা পাবে নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।