তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রামগন্জের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের নিচহরা থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ওজিউল্লাহ সড়কে সংস্কার কাজ চলমান। সড়ক পিচ ঢালাইয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ মাস ধরে করা পিচঢালাই হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের সংস্কার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ৩৪’শ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক সংস্কারে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়ছিলো।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, এক যুবক হাত দিয়ে অনায়াসে তুলে ফেলছেন সড়কের পিচ। এই অবস্থা দেখে আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। উপস্থিত লোকজন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি কাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ নিয়ে অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দে সড়কটি সংস্কারের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুর রহমান। যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্টে। পিচঢালাইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
শেফালীপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাটবাজার—সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এত দিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন। মাত্র ৬ মাস হতে চলেছে পিচঢালাই করেছে, এখন হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে।’
মাহিম খান নামের অপর একজন বলেন, ‘নামমাত্র বিটুমিন দিয়েই সংস্কারকাজ সেরেছে ঠিকাদার। এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।’ কাঞ্চনপুর গ্রামের ওজিউল্লাহ ও হানিফ মিয়া বলেন, ‘আমরা এমন রাস্তা চাই না। এই রাস্তা এক মাসও টিকবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স ওয়াহিদুর রহমান কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তার কাছ থেকে কাজটি কিনে নেওয়া সাব ঠিকাদার ফারুখ হোসেন বলেন, কাজ সঠিকভাবেই হচ্ছে। রিপোট করলেও আমার কিছুই হবেনা। তবে কাজের তদারককারি উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ সুমন বলেন, রাস্তার কাজের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। যুদ্ধ লাগানোর কারনে বিশ্ববাজারে বিটুমিনের দাম বেড়ে গেছে। ঠিকাদাররা এখন কাজ করতে চায়না।
এলজিইডির রামগন্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ মোঃ খান বলেন, উপসহকারি প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছ যথাযথভাবে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য। রামগন্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজি আতিকুর রহমান বলেন, ‘সড়কের কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি।’
মেঘনার তীর 



















