স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অংশীজনদের সহযোগিতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে (লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে) তিনটি ব্রীজসহ অবৈধ ৬১টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উচ্ছেদ অভিযানের নেত্বত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে (৯ জুন) উত্তর চরবংশী ইউপির বংশী ব্রীজ এলাকায় ডাকাতিয়ার খালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ) দুই কি.মি (খাসেরহাট বাজার পর্যন্ত) অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকালে বংশী ব্রীজ এলাকার তিনটি ব্রীজ ও ৬১টি অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এসময় সরকারি ১২ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে বিকেল সোয়া ৫টায় প্রথম দিনের উচ্ছেদ অভিযান শেষ হবে। পরবর্তী দিনে যথারীতি উচ্ছেদ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে জানান পাউবোর লক্ষ্মীপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, টাকা বিনিময়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে প্রশাসনকে ভূল বুঝিয়ে পৃথক তিনিটি খাল খনন কাজ করছিলো একটি চক্র। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের অভিযান পরিচালনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে,দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার চরবংশী ও স্টিল ব্রীজের আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি খালের দু-পাড়ে দখল করার কারনে পানির প্রভাব বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এসব এলাকার মানুষকে। তাই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য সাধারন মানুষের দাবী ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র জানান, রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপির বংশীব্রীজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে ৩টি ব্রীজসহ ৬১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচাল না করা হয়। প্রর্যায়ক্রমে খালখননে উপজেলার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, রায়পুরে তিনটি ইউনিয়নে খাল খননের কাজ চলছে। এর কাজের অংশ হিসেবে উচ্ছেদ নথি সৃজন করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।। ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনাকারীদের উচ্ছেদ নোটিশ ও দেয়া হয়েছিলো।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও খালের দু-পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রত্যেক অবৈধ দখলদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। এই অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। খালের দু-পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে পানি প্রবাহে আর বাধা হবেনা। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবেনা বলে আশা করেন তিনি।
মেঘনার তীর 



















