তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: গত দেড় মাস আগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ২৮টি স্থায়ী হাটবাজার এবং সম্প্রতি ১৫টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এবছরই সবচেয়ে বেশি ইজারা দেওয়া হয়েছে দক্ষিন চরবংশী ইউপির মোল্লারহাট বাজার (১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা)। আগে এইসব বাজারগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হয় এবং তা না মানলে ইজারার টাকা দিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেননা ইজারাদার ও ইউনিয়ন পরিষদ। প্রায় ৪ বছর আগে দিনের পরিবর্তে রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছিলো “হায়দরগন্জ বাজারে”। তখন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে নিকটস্থ ডাস্টবিন ও কন্টেইনারে ময়লা ফেলার সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এই কার্যক্রম কয়েক মাস ঠিকভাবে চললেও এখন চরমভাবে অবহেলায় পড়ে আছে। বেশির ভাগ গুরুত্বপুর্ণ মোড় ও সড়কের পাশে দিনের বেলায় ডাস্টবিনে পড়ে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। শিক্ষার্থী, পথচারী ও ব্যাবসায়ীদের পথ চলতে হচ্ছে অস্বস্তি নিয়ে।
রোববার (১৭ মে) হায়দরগন্জ মাছ বাজার এলাকায় ময়লা ফেলে স্তুপ করা নিয়ে দুই ব্যাবসায়ী মারামারি করে দুইজনই আহত হয়।। হায়দরগন্জ বাজার ছাড়াও মীরগন্জ বাজার, বোয়ার্ডার, রাখালিয়া, বাসাবাড়ী, কেরোয়া, চরপাতা, গাজিনগর বাজার ব্যাবস্থাপনাও খুব খারাফ। সঠিক সময়ে পরিচ্ছন্ন করা হয়না।
প্রায় চার বছর আগে রায়পুরের শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী খোকনের সহযোগিতায় (হায়দরগন্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা) হায়দরগন্জ বাজার প্রথম শুরু হয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে। রাতের বেলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শতভাগ সফল না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাফর উল্লাহ দুলাল হাওলাদার। এতে তিনি ইজারাদারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়াকে দায়ী করেছেন। ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি শতভাগ পরিচ্ছন্ন করতে সবাইকে নিয়ে সম্প্রতি বৈঠক করেন বলে জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, হায়দরগন্জ বাজারের উপর ইউনিয়ন পরিষদ, সিএনজি স্টেশান, ১টি কামিল মাদরাসা, দুইটি হাইস্কুল, তিনটি কেজি স্কুল, চারটি ব্যাংক, হাসপাতাল, চারটি মার্কেট, ৮টি খাবার হোটেলসহ ছোট-বড় প্রায় ২ হাজার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা বাজার ইজারা নিয়েছেন তারাই পরিচ্ছন্ন রাখবেন বলে সরকারি নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ইউএনওর নির্দেশনা মানছেন না ইজারাদার।
সরেজমিনে দেখা যায়, হায়দরগন্জ বাজারের বাংলাবাজার, গাজি মার্কেট, কাঁচাবাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, মাছ বাজার, গরুর বাজার, পানবাজার ও মাদরাসাসহ কয়েকটি উন্মুক্ত স্থানে দিনের বেলায় পড়ে আছে ড্রামভর্তি ময়লা। এ ছাড়াও সিএনজি স্টেশান এলাকায় ডাস্টবিন আবর্জনায় দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করে চলাচল করতে হচ্ছে ব্যাবসায়ী ও পথচারিদের।
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মাল রোববার দুপুর দুইটায় বলেন, সড়কের পাশে মাছ বাজার এলাকায় ময়লা পড়ে আছে তিন মাস ধরে। কিন্তু কেউ এগুলো সরিয়ে নেয়নি।
এ ব্যাপারে চরআবাবিল ইউপির ৫ নাম্বার ওয়াডের সদস্য (মেম্বার) মহিউদ্দিন গাজি বলেন, প্রতি রাতেই আবর্জনা পরিষ্কার করা কথা। তা না করায় কিছুই করতে পারছিনা। ব্যাবসায়ীরা খেয়ালখুশি মতো ময়লা ফেলেন।
চট্রগ্রাম আন্দকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব (রায়পুরের হায়দরগন্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা) আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরীর বাড়ীর এলাকার বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, তাঁদের এলাকার ডাস্টবিনগুলোতে দিনের বেলায়ও আবর্জনা পড়ে থাকে। তবে তিনিও স্বীকার করেন, স্থানীয় লোকজন নিজেরা খুশি মতো আবর্জনা ফেলে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, শুরুর দিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এই কার্যক্রম ভেঙে পড়ছে। বাজার ওআসে পাশের এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনার চিত্র আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যা কাম্য নয়।
হায়দরগন্জ বাজার ইজারাদার বিএনপি নেতা ইসমাইল মাষ্টার ও বাছেদ হাওলাদার বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন হায়দরগন্জবাজার গড়তে রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ‘ শতভাগ পরিচ্ছন্ন করে তুলতে নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। এই কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন করবো।’
উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ দুলাল হাওলাদার জানায়, ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বাজার ব্যাবসায়ীদেরকে নিয়ে সভা করা হয়। বিষয়টি ইউএনওকেও জানানো হয়েছে। ডাস্টবিন ময়লা ফেলার জন্য বলা হয়।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘ যারাই ইজারা নেবেন, তারাই প্রতিটি বাজার পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তে পৌরসভায় ৪টি ও ১০টি ইউনিয়নে ২৪টি হাটবাজার এবং নতুন বাজারসহ ১৫টি পশুর হাট টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সহসাই আমরা এবিষয়ে অভিযানে নামবো। এই কার্যক্রম শুরু হলে বাজারে বিভিন্ন সড়ক ও অলি-গলিতে থাকা ডাস্টবিন গুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এ পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে আর কোনো ময়লার ড্রামভর্তি ডাস্টবিন থাকবে না।
মেঘনার তীর 



















