তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: বিদ্যালয়ে একটি মাত্র আধাপাকা ভবন, তাও আবার ঝুকিপুর্ণ ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। চারদিকে ঝোপঝাড়। টয়লেও ঝুকিপুর্ণ ও ওয়াসবল্কও নেই। গত ৩০ বছর ধরে আধাপাকা টিনের চালের হওয়ায় শ্রেণি কক্ষ সংকটে চলছে পাঠদান। ভবনের সঙ্গেই ছোট একটি দোচালা টিনের খুপড়ি ঘরের মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ চিত্র যেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের পুর্ব সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানি চাল দিয়ে ভেতরে পড়ে কক্ষ স্যাঁতস্যাতে থাকায় কষ্ট সহ্য করতে না পেরে থেকে কেজি চলে গেছে । বৃষ্টির দিনে পাঠদানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। নতুন ভবন দ্রুত র্নির্মাণ না হলে এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো মুশকিল হয়ে যাবে।
জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির উপরে টিনসহ ভবন পূর্ণ নির্মাণ হয় ১৯৯৫ সালে।। বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৫ জন। নিয়মিত পাঠদানে করে ৪৫ জন। যাদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রেণিকক্ষ নেই। টয়লেটও ঝুকিপুর্ণ ও ওয়াসবল্কও ভাঙ্গাচোরা।। পাশের মসজিদের টয়লেটে গিয়ে শিশুদের প্রাকৃতিক কাজ ছাড়তে হয়। সবমিলিয়ে করুন অবস্থা।।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চালার খুপরি ঘরের মধ্যে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। বৃষ্টিতে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। এতে আতংকিত শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গরমের মধ্যে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হতে হয়, এখন সামান্য বৃষ্টি হলেও টিনের ছিদ্র দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। কবে আমরা পাকা ঘরে বসে ক্লাস করতে পারব? অন্য বিদ্যালয়ের মতো আমরা একটি নতুনভবনের নিচে বসে আমরা পড়তে চাই।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজ জানায়, ভবন না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে। রোদের কারণে টিনের চালা খুবই গরম হয়। তাপে মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরিদা আক্তার বলেন, ভবন না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি বলেন আর গরম বলেন, ক্লাস করতে খুব কষ্ট পাচ্ছে বাচ্চারা। পাঠদানের সময় অমনোযোগী হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও দিন দিন কমছে। তাছাড়া এই স্কুলের পাশে দুটি প্রতিষ্ঠান আছে।
অভিভাবক বিল্লাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের অবস্থা ভালো না। যার কারণে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানে এক দাতার দুই নাতির বাঁধার কারনে নতুন ভবন করতে পারছেনা স্কুল কর্তৃপক্ষ।।
প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝরাজীর্ণ ভবনের মধ্যেই বাধ্য হয় প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান চালিয়ে আসছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়। এসব কারণে অভিভাবকরাও বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না বলেন তিনি। অথচ রায়পুর উপজেলায় ১২০টি বিদ্যালয় নতুনভবনে চাকচিক্য অবস্থায় আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো হয়ে থাকে এলজিডির মাধ্যমে ইতিমধ্যে। পূর্বের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনের তালিকা পাঠিয়েছে। আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।
মেঘনার তীর 



















