তাবারক হোসেন আজাদ (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় ৫টি সড়কে চলছে কয়েক ঠিকাদারের খোঁড়াখুঁড়ি। সরকারি মাচ্চেন্টস একডেমি থেকে খাজুরতলা পর্যন্ত খোঁড়া এসব সড়কে এমনিতেই ভোগান্তিতে ছিলেন পৌরবাসী। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চলাচল অনুপযোগী এসব সড়কে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। খুঁড়ে তোলা পিচ, মাটি আর পানি মিলেমিশে কাদা হয়ে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পৌরসভার বেহাল সড়কগুলোর কাজে ধীরগতিতে নিয়ে আইনশৃংখলা সভায় ও পৌর কার্যালয়ে মাসিক কমিটির সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পুরে এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া। সঠিক সময়ে কাজ না শেষ করলে ঠিকাদার দের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেন এমপি।
বর্তমানে রায়পুর পৌরসভার টিএনটি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুনবাজার সড়ক, খাজুরতলা সড়ক, মধুপুর গ্রামের সড়কসহ ৫টি সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি– সংস্কারকাজ চলছে। কয়েকদিন ধরে রায়পুরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। খুঁড়ে তোলা মাটির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিলেমিশে কাদায় পরিণত হয়েছে। একদিকে সড়কে বড় বড় গর্ত, তার মধ্যে পিচ্ছিল কাদা। ফলে সড়কে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ছোট ছোট যানসহ পথচারীরা।
বাসটার্মিনাল এলাকার টিএনটি, কাঞ্চনপুর, দেনায়েতপুর, নতুনবাজার, খাজুরতলা ও মহিলা কলেজ এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। আগে থেকেই বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। লোকজন হেঁটে চলত। তিন-চার দিনের বৃষ্টিতে হেঁটে চলা আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) টিএনটি, নতুনবাজার ও খাজুরতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও চলছে পয়োনিষ্কাশনের সংযোগ প্রশস্ত করা, আবার চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। টিএনটি সড়ক, নতুনবাজার, মহিলা কলেজ ও খাজুরতলা এলাকায় গত ডিসেম্বর মাস থেকে সড়ক খুঁড়ছে পৌরসভার তিনজন ঠিকাদার। নতুনবাজার- মহিলা কলেজ সড়ক ও ড্রেনের কাজ শেষ না হতেই নতুন করে হায়দরগন্জ সড়কের নর্দমা পর্যন্ত পৌরসভা অংশের কাজ খুঁড়ছে পৌরসভা। দুটি সড়ক কয়েক দিনের ব্যবধানে খোঁড়া ভোগান্তিতে পড়ে এলাকাবাসী।
নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম খলিল ও বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রতি বছর বর্ষা আসার আগ মুহূর্তে শুরু হয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। বৃষ্টিতে চলাচলে অসুবিধা হবে জানা কথা, তাহলে আগে থেকে কাজ শুরু করে না কেন। এবারও খোঁড়া হয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টি হলে একদমই চলা যাবে না। গত দেড় বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চালাচ্ছে পৌরসভা। সড়কগুলোয় ড্রেন নির্মাণ কাজ করছে। খোঁড়া গর্ত ঠিকভাবে ভরাট না করায় এবং গর্তের বালি সরে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিরপানি মিশে পুরোএলাকা ও সড়ক কাদায়ডুবে আছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে আইনশৃংখলা সভায় ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় এ বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।—যার ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে উন্নয়নকাজ। যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে, সেসব এলাকায় পানিপ্রবাহের নালা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি সড়কে জমে না থাকে।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, কাজ শুরুর ক্ষেত্রে বরাদ্দ পাওয়া, টেন্ডারিংয়ের মতো অনেক ব্যাপার থাকায় আরও আগে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়নি। সবকিছু মিলিয়ে সঠিক সময়েই কাজ শুরু করা গেছে। খুব তাড়াতাড়ি সব সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মেঘনার তীর 



















