ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

লক্ষ্মীপুরে কোরবানীর পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত তিন হাজার খামারি,চাহিদার তুলনায় ৬হাজার ২৬২টি বেশি পশু রয়েছে

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৭:১৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • 203

জাহাঙ্গীর আলম: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের খামারগুলোতে পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারীরা। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে গরুর দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশিরভাগ খামারীরা লালন-পালন করছে পশু। দেশের বাইরে থেকে যেন গরু না আসে, সে বিষয়ে জোর দাবি জানান তারা। প্রাণীসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলার কোরবানির চাহিদার তুলনায় এবার অধিক পশু পালন হয়েছে। খামারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন পশু সম্পদ বিভাগ। এবার জেলায় ১লাখ ৩৯ হাজার গরু লালন-পালন হয়। এর মধ্যে কোরবানীর জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি। কিন্তু ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু বেশি।

মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বালাইশপুর এলাকার আর্দশ গরু খামারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই খামারে রয়েছে দেশীয় জাতের প্রায় দুই শতাধিক গরু। প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করা হচ্ছে এসব পশু। সেখানে কথা হয় আবুল হাসান নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশীয় গরু বেশি প্রচন্দ। সুন্দর সুন্দর পশু রয়েছে। তবে এক লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে খামারে পশু রয়েছে। দামও তুলনায়মূলক ভালো। একটি পশু খামারী দুই লাখ টাকা হাম হাকিয়েছেন। দেড় লাখ টাকা দাম বলেছি, কিন্তু খামারী দেয়নি। এখনও সময় আছে। আরো দেখে শুনে পশু নিব। এইভাবে আবুল হাসানের মতো অনেকে গরু কিনতে আসছেন। কারো প্রচন্দ হচ্ছে,আবার অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। গত বছরের চেয়ে প্রতিটি গরুতে ১৫/২০ হাজার টাকায় বেশি দাম কিনতে হচ্ছে গরু। তবে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা রয়েছে। তবে অনেকে গরু কিনতে শুরু করলেও আরো কয়েকদিন পর পশু কিনার কথা বলেছেন অনেকেই।
শুধু আদর্শ এই খামারে নয়,এইভাবে জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় তিন হাজার খামারগুলোতে এখন চলছে বেচা-কিনা। পাশাপাশি পশুর অতিরিক্ত পরিচর্যায় করছেন খামারীরা। নিয়মিত খাবার দেয়া, গোসল করানোর পাশাপাশি চলছে নিয়মিত চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো। সামান্য অযতেœ প্রাণী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে এখন থেকে সতর্ক খামারীরা। তবে গেল বছরের তুলনায় গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশু বেশি থাকায় এবার গরুর দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

আর্দশ গরু খামারের মালিক ফারুকুর রহমান ফারুকসহ অনেক খামারীরা জানান, প্রাণী-সম্পদ বিভাগের পরামর্শে গবাদী পশুকে পুষ্টিকর খাবার, খৈল,গম,ভাত,ভূষি,ছোলাসহ সবুজ খাস খাওয়ানো হচ্ছে। এতে করে সহজে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। যাহা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে এসব পশু। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার করা হয়না। গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম প্রকারভেদে ১৫/২০ হাজার টাকা বেশি। সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে যেন গরু না আসে সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ চাইছেন খামারীরা।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম ফজলুল হক বলেন,গরুর লালন-পালন, চিকিৎসাসহ খামারীদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলায় গরুর চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু রয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় ৮৮ হাজার পশু। তার চেয়ে অনেক বেশি পশু রয়েছে বলে জানান তিনি। ১লাখ ৩৯ হাজার গরু লালন-পালন হয়। এর মধ্যে কোরবানীর জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি। কিন্তু ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু বেশি। কোন সমস্যা হবেনা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

লক্ষ্মীপুরে কোরবানীর পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত তিন হাজার খামারি,চাহিদার তুলনায় ৬হাজার ২৬২টি বেশি পশু রয়েছে

আডেট সময় ০৭:১৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীর আলম: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের খামারগুলোতে পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারীরা। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে গরুর দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশিরভাগ খামারীরা লালন-পালন করছে পশু। দেশের বাইরে থেকে যেন গরু না আসে, সে বিষয়ে জোর দাবি জানান তারা। প্রাণীসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলার কোরবানির চাহিদার তুলনায় এবার অধিক পশু পালন হয়েছে। খামারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন পশু সম্পদ বিভাগ। এবার জেলায় ১লাখ ৩৯ হাজার গরু লালন-পালন হয়। এর মধ্যে কোরবানীর জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি। কিন্তু ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু বেশি।

মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বালাইশপুর এলাকার আর্দশ গরু খামারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই খামারে রয়েছে দেশীয় জাতের প্রায় দুই শতাধিক গরু। প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করা হচ্ছে এসব পশু। সেখানে কথা হয় আবুল হাসান নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশীয় গরু বেশি প্রচন্দ। সুন্দর সুন্দর পশু রয়েছে। তবে এক লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে খামারে পশু রয়েছে। দামও তুলনায়মূলক ভালো। একটি পশু খামারী দুই লাখ টাকা হাম হাকিয়েছেন। দেড় লাখ টাকা দাম বলেছি, কিন্তু খামারী দেয়নি। এখনও সময় আছে। আরো দেখে শুনে পশু নিব। এইভাবে আবুল হাসানের মতো অনেকে গরু কিনতে আসছেন। কারো প্রচন্দ হচ্ছে,আবার অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। গত বছরের চেয়ে প্রতিটি গরুতে ১৫/২০ হাজার টাকায় বেশি দাম কিনতে হচ্ছে গরু। তবে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা রয়েছে। তবে অনেকে গরু কিনতে শুরু করলেও আরো কয়েকদিন পর পশু কিনার কথা বলেছেন অনেকেই।
শুধু আদর্শ এই খামারে নয়,এইভাবে জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় তিন হাজার খামারগুলোতে এখন চলছে বেচা-কিনা। পাশাপাশি পশুর অতিরিক্ত পরিচর্যায় করছেন খামারীরা। নিয়মিত খাবার দেয়া, গোসল করানোর পাশাপাশি চলছে নিয়মিত চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো। সামান্য অযতেœ প্রাণী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে এখন থেকে সতর্ক খামারীরা। তবে গেল বছরের তুলনায় গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশু বেশি থাকায় এবার গরুর দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

আর্দশ গরু খামারের মালিক ফারুকুর রহমান ফারুকসহ অনেক খামারীরা জানান, প্রাণী-সম্পদ বিভাগের পরামর্শে গবাদী পশুকে পুষ্টিকর খাবার, খৈল,গম,ভাত,ভূষি,ছোলাসহ সবুজ খাস খাওয়ানো হচ্ছে। এতে করে সহজে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। যাহা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে এসব পশু। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার করা হয়না। গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম প্রকারভেদে ১৫/২০ হাজার টাকা বেশি। সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে যেন গরু না আসে সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ চাইছেন খামারীরা।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম ফজলুল হক বলেন,গরুর লালন-পালন, চিকিৎসাসহ খামারীদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলায় গরুর চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু রয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় ৮৮ হাজার পশু। তার চেয়ে অনেক বেশি পশু রয়েছে বলে জানান তিনি। ১লাখ ৩৯ হাজার গরু লালন-পালন হয়। এর মধ্যে কোরবানীর জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি। কিন্তু ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি পশু বেশি। কোন সমস্যা হবেনা।