ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত না করে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী জনগণের অধিকার নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে: এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কমলনগরে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় চলছে শোকের মাতম

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতা ও ঘরের নামে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

স্টাফ রিপোর্টার:লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর–এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিমা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন এবং দাবি করতেন তার মাধ্যমে সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে।

তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয় সহজ-সরল মানুষ জনপ্রতি হাজার হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশু ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং টয়লেট নির্মাণের নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত–আট মাস পার হলেও কোনো সুবিধা মেলেনি। পরে টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টালবাহানা।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তের ছোট ভাই মো. তানভীর হোসেন ভুক্তভোগীদের দুই মাস সময় নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। তবে পরে তিনি তার বড় ভাইকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আরও বলা হয়েছে, নিজেদের রক্ষা ও ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক চক্র কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং কিছু সাক্ষী দাবি করেছেন তাদের অনুমতি ছাড়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় এলাকায় ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে সরকারি ভাতা ও ঘরের নামে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

আডেট সময় ১২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলাজুড়ে সরকারি ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর–এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিমা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন এবং দাবি করতেন তার মাধ্যমে সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে।

তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয় সহজ-সরল মানুষ জনপ্রতি হাজার হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশু ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং টয়লেট নির্মাণের নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত–আট মাস পার হলেও কোনো সুবিধা মেলেনি। পরে টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টালবাহানা।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তের ছোট ভাই মো. তানভীর হোসেন ভুক্তভোগীদের দুই মাস সময় নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। তবে পরে তিনি তার বড় ভাইকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আরও বলা হয়েছে, নিজেদের রক্ষা ও ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতারক চক্র কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং কিছু সাক্ষী দাবি করেছেন তাদের অনুমতি ছাড়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় এলাকায় ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।