ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 194

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট