ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি প্রথম ফ্লাইট দেশে ফিরলেন ৪৪৫ জন হাজী লক্ষ্মীপুরে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 39

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্র, আইন ও গণমাধ্যমের সংকটের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

আডেট সময় ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা সমাজের সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতার প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। “হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা” শিরোনামটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
সাংবাদিকরা মূলত সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সত্য প্রকাশের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক এখন নিজেরাই আইনি হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক চাপের শিকার হচ্ছেন।
হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা পেশা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবেও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। ফলে প্রকৃত অপরাধী ও নিরপরাধের পার্থক্য মুছে যেতে থাকে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, হয়রানি, হামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকের সংকট নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, ভীত সাংবাদিক কখনো স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। আর স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উচিত সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহিতাও বজায় রাখা। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে গণমাধ্যমের শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, হত্যা মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সুখকর নয়। সত্য প্রকাশের কলম যদি শৃঙ্খলিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই। তাই সাংবাদিকতা যেন ভয় নয়, স্বাধীনতা ও সত্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট